বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের অন্যতম সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত চালডাল ডটকম এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। 'সময় বাঁচাও, খরচ বাঁচাও' স্লোগান নিয়ে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করলেও বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
বেতনহীন কর্মীদের মানবেতর জীবন ও বিক্ষোভ যশোরের সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে চালডালের কল সেন্টারে কর্মরত প্রায় ৬০০ কর্মী গত তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় বেতন না পেয়ে কর্মীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে গত সোমবার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। কর্মীরা পার্কের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করতে চাইলে কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীরা ফটক ভাঙচুর করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কর্মীদের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠেছে।
বিনিয়োগের পাহাড় বনাম আর্থিক সংকট চালডাল ডটকম গত এক দশকে সিলিকন ভ্যালির ওয়াই কম্বিনেটর, আইএফসি, এল ক্যাটারটন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডসহ অন্তত ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই বিনিয়োগ সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বেতন দিতে না পারা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগ্রাসী বাজার দখল, অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় এবং বৈশ্বিক মন্দার কারণে নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা এই সংকটের প্রধান কারণ হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের মৌনতা ও সরকারি পদক্ষেপ বর্তমান সংকট নিয়ে চালডাল ডটকমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম কিংবা চিফ অপারেটিং অফিসার জিয়া আশরাফের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানিয়েছেন, তাঁরা যশোরের বিনিয়োগকারী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।
ই-কমার্স খাতে আস্থার সংকট সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, চালডালের মতো বড় প্রতিষ্ঠান যদি দেউলিয়া হওয়ার পথে হাঁটে, তবে দেশের ই-কমার্স খাতের ওপর সাধারণ মানুষের এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা চরমভাবে হ্রাস পাবে। হাজার হাজার কর্মীর বেকার হওয়ার পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিও বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।