তিস্তা নদীর চরজুড়ে যে দিকে চোখ যাবে সে দিকে শুধু সবুজের সমারোহ। এ সবুজ ভুট্টাখেতের। তিস্তার বালুচরে ভুট্টা চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন করছেন গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর চরের চাষিরা। মাইলের পর মাইল জুড়ে পলি মিশ্রিত বালু মাটিতে সব ধরনের ফসল ফলানো যায়। অন্য ফসলের আশানুরূপ ফলন না পেলেও ভুট্টার ফলন হচ্ছে বাম্পার। তাই চরের চাষিরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকেছেন চাষিরা। অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টার চাষাবাদে বেশি আগ্রহী কৃষকরা।। ফিড কোম্পানিগুলো সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ভুট্টা কিনে নেওয়ায় তাদের তেমন সমস্যায় পড়তে হয় না। উপজেলা কৃষি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে। অধিকাংশ ভুট্টাই চাষ হচ্ছে তিস্তার চর ও নদী তীরবর্তী বিস্তৃত এলাকায়। এদিকে, ভুট্টা চাষে অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার ৪০০ মেট্রিক টনের স্থলে অর্জিত হচ্ছে ৫৪ হাজার ৩’শ ২০ মেট্রিক টন। এরমধ্যে তিস্তানদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষাবাদ লক্ষ্যনীয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধ করণ ও কৃষকদের আগ্রহী অক্লান্ত শ্রমে এবারে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। হরিপুরের চরে রন্জু মিয়া বলে, এ বছর তিস্তার বালুচরে ৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। বীজ, সার ও শ্রমিকের খরচ হবে ৬০-৬৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমি থেকে ৪৫-৫০ মণ ভুট্টা পাওয়া যাবে। প্রতি মণ ভুট্টা ৮০০- ১১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়' উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'গত ১০ বছর ধরে তিস্তার চরে ভুট্টা চাষ করছি। প্রথমে তেমন ফলন না পেলেও এখন বাম্পার ফলন পাচ্ছি। উপজেলার তিস্তার চর কিশামত সদর এলাকার কৃষক নুজরুল হক নজু বলেন, 'চরাঞ্চলে ভুট্টার আবাদ আসার আগে চরের জমি পতিত ছিল। অন্য ফসলের আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এসব জমিতে ফসল ফলানো হয়নি। এখন ভুট্টা চাষে তারা মনোযোগী হচ্ছেন। আমরা ভুট্টা চাষে আশানুরূপ ফলন ও দাম পাচ্ছি। শুধু ভুট্টা চাষ করেই চরের কৃষকরা টিকে আছেন। গত বছর ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। এ বছর চাষ করেছি ১০ বিঘায়। আশা করছি, ভালো ফলন ও দাম পাবো। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করণ, চাষাবাদে সার্বিক পরামর্শ প্রদান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অধীনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদেরকে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে সহযোগিতা করাসহ মাঠ পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনে সার্বিক ধারণা প্রদান করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, ভুট্টাচাষে লাভজনক ও চরাঞ্চলের জমিগুলোতে (যেসব জমিতে ধান চাষে অনুপযোগিত) উৎপাদন বাড়াতে আমাদের অবিরাম প্রচেষ্টা চলমান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীতে খাদ্যশস্যোৎপাদনে কৃষদের আরো আগ্রহ বাড়ছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষকরা এখন অনেকাটই উৎপাদনমূখী হয়েছে। অধিক লাভজনক ও উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলাতে তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক ফসলের পরিচর্যা করছেন। পরামর্শ নিতে তাঁদের আগ্রহ বেড়েছে।
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার চরজুড়ে সবুজ ভুট্টা খেতের সমারোহ! ভুট্টার বাম্পার ফলনের হাতছানি
দেশজুড়ে
১ মিনিট পড়া
জয়ন্ত সাহা যতন,সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) উপজেলা সংবাদদাতা