• দেশজুড়ে
  • ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ যাত্রী ও সাধারণ মানুষ

ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ যাত্রী ও সাধারণ মানুষ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ যাত্রী ও সাধারণ মানুষ

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। দিনরাত তীব্র গতিতে ছুটছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং ব্যক্তিগত যানবাহন। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই চার লেনের মহাসড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ভাওয়াল অঞ্চলের শাল-গজারি বন। আর সেই ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে সড়ক বিভাজকজুড়ে ফুটে থাকা সাদা, গোলাপি ও লালচে রঙের ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য যেন তৈরি করেছে এক টুকরো ফুলের স্বর্গরাজ্য। ‎ ‎গাজীপুরের সালনা থেকে শুরু করে মহাসড়কের দীর্ঘ অংশজুড়ে সড়ক বিভাজকের গাছে গাছে ফুটে থাকা ফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন পরিবহনের চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করছে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের বুকের ওপর লালচে-গোলাপি ও সাদা ফুলের বর্ণিল কারুকাজে সাজানো হয়েছে পুরো মহাসড়ক। ‎ ‎বসন্তের এই রঙিন সাজ দেখতে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন অনেক দর্শনার্থী। কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। আবার চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে যাত্রীরাও ক্যামেরাবন্দি করছেন প্রকৃতির এই অপূর্ব রূপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে মহাসড়কের ফুলেল সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই সরাসরি এসে উপভোগ করছেন এই দৃশ্য। ‎ ‎সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশ। কিছু দূর এগোতেই চোখে পড়ে সড়কের দুই পাশে ভাওয়ালের শাল-গজারি বন। কোথাও কোথাও শিল্পকারখানা ও ইট-পাথরের স্থাপনা থাকলেও, তার মাঝেই সড়ক বিভাজকের ফুলেল সাজ পুরো পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর করেছে। ‎ ‎মাঝখানে সারি সারি সাজানো ফুলগাছগুলো যেন চলাচলকারী মানুষকে স্বাগত জানাচ্ছে। লালচে-গোলাপি ও সাদা রঙের ফুলের সমাহার পথচারীদের আকৃষ্ট করছে। কাছে গেলে যে কারও মনে হবে অন্তত এক মুহূর্ত থেমে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও করে স্মৃতিতে ধরে রাখছেন এই অনন্য দৃশ্য। ‎ ‎শুধু যাত্রী বা চালক নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক মানুষ আসছেন এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে দর্শনার্থীদের ছোট ছোট জটলা দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সঙ্গে এসে কিছু সময় কাটাচ্ছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে। ‎ ‎জানা গেছে, জেলার চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সড়ক বিভাজকের গড় প্রস্থ প্রায় ১৩ ফুট। এই দীর্ঘ বিভাজকজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে, যা বসন্ত মৌসুমে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। সবুজের সমারোহ আর বর্ণিল ফুলের সাজ যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। ‎ ‎ব্যস্ত নগরজীবনের যান্ত্রিকতা ও ক্লান্তির মাঝেও এই সবুজ আর ফুলের সমাহার যাত্রীদের মনে প্রশান্তি সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ ভ্রমণে থাকা অনেক যাত্রী বলছেন, এমন সবুজ পরিবেশ ও ফুলের সৌন্দর্য ভ্রমণের ক্লান্তি অনেকটাই দূর করে দেয়। ‎ ‎ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সড়ক বিভাজকে লাগানো ফুলগাছগুলোর মধ্যে রয়েছে নীল কাঞ্চন, কামিনী, কৃষ্ণচূড়া, জোড়া টগর, রাধাচূড়া, অগ্নিশ্বর, পলাশ, গৌরীচূড়া, কনকচূড়া, কনকচাঁপা, কদম, কাঠবাদাম, জারুল এবং রক্তকরবীসহ আরও কয়েক প্রজাতির গাছ। বছরের বিভিন্ন সময় এসব গাছে ফুল ফোটে, ফলে মহাসড়কজুড়ে সারাবছরই কোনো না কোনো ফুলের সৌন্দর্য দেখা যায়। ‎ ‎এছাড়া সড়কের এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো যাতে বিপরীত লেনের চালকদের চোখে না পড়ে, সেই উদ্দেশ্যেও ডিভাইডারের ওপর এসব গাছ লাগানো হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে সবুজ ও ফুলের এক নান্দনিক পরিবেশ। ‎ ‎সালনা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান সাগর বলেন, ‘ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুলের সৌন্দর্য দেখতে সরাসরি এখানে এসেছি। সত্যি বলতে ফুলগুলো অনেক সুন্দর। কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যাবে না কতটা দৃষ্টিনন্দন।’ ‎ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম বন্ধুদের নিয়ে ফুল দেখতে এসেছেন। ‎ ‎তিনি বলেন, ‘এক বন্ধুর মাধ্যমে এ ফুলের খবর পেয়ে কয়েকজন মিলে দেখতে এলাম। মনে হচ্ছে বিদেশের কোনো রাস্তা। দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে ভ্রমণ আরও আনন্দদায়ক হবে। ‎ ‎গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহাম্মদ তারিক হাসান বলেন, ‘মহাসড়কের সড়ক বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। কোথাও ২ থেকে ৫ মিটার প্রস্থের জায়গায় তিন সারিতে এবং ১ থেকে ২ মিটার প্রস্থের জায়গায় এক সারিতে গাছ লাগানো হয়েছে।’ ‎ ‎তিনি জানান, ‘এসব গাছ নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। ইতোমধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ফুল ফোটায় যাত্রী ও পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। পাশাপাশি এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ ‎ ‎সব মিলিয়ে ব্যস্ততম ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বুক চিরে ফুটে ওঠা এই ফুলেল সৌন্দর্য এখন শুধু গাজীপুরবাসীর নয়, সারা দেশের মানুষের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।