• দেশজুড়ে
  • জলাবদ্ধতা রোধে মাঠে চসিক মেয়র, নালা-খাল দখলদারদের সতর্কবার্তা

জলাবদ্ধতা রোধে মাঠে চসিক মেয়র, নালা-খাল দখলদারদের সতর্কবার্তা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
জলাবদ্ধতা রোধে মাঠে চসিক মেয়র, নালা-খাল দখলদারদের সতর্কবার্তা

মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে জোরদার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর অংশ হিসেবে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় নগরীর বাকলিয়া এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার ও মাটি উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কার্যক্রম পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি সরেজমিনে কাজ পরিদর্শনের পাশাপাশি নিজ হাতে নালা থেকে ময়লা উত্তোলন করে কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মেয়র বলেন, “গত বছর আমরা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পেরেছি। বিভিন্ন সেবা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে এ সাফল্য এসেছে। এবারও একইভাবে কাজ চলছে।” তিনি আরও বলেন, “নগরীর অধিকাংশ নালা-খাল এখনো ময়লায় ভরে যাচ্ছে। সচেতনতা সৃষ্টির পরও অনেকে যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলছেন। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আমি নিজেই দেখেছিÑনালায় বিপুল পরিমাণ ময়লা জমে আছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নগরবাসীকেই দায়িত্বশীল হতে হবে।”

আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে দক্ষিণ বাকলিয়া, পশ্চিম বাকলিয়া, বাজার পদারহাট, আগ্রাবাদ ও মহরাসহ নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা যেন না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানান মেয়র।

তিনি বলেন, “আমরা চাই, কোনো মানুষ যেন পানিবন্দি না থাকে।” নাগরিকদের প্রতি আহŸান জানিয়ে মেয়র বলেন, “এই শহরকে ভালোবাসতে হবে। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত না করলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মেয়র রাস্তায় নেমে কাজ করলে নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।”

নালা-খালে ময়লা ফেলা এবং অবৈধ দখল বা ড্রেন সংকুচিত করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যারা নালা-খালে ময়লা ফেলবে বা অবৈধভাবে দখল করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।”

তিনি জানান, চসিক ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ডাস্টবিন সরবরাহ করেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে বা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া দোকানদারদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, “দোকানের সামনে যেন কেউ ময়লা না ফেলে বা হকার বসে পরিবেশ নষ্ট না করে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

চসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমজুড়ে এ ধরনের নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে জলাবদ্ধতা কমিয়ে নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘব করা যায়।