বাংলাদেশের নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে দীর্ঘ ২৫ বছরের গৌরবময় পথচলা উদযাপন করল ‘এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর ক্যাথলিক মিশনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংস্থাটির ‘রজত জয়ন্তী’ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।
২০০০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত এক চতুর্থাংশ শতাব্দী ধরে সংস্থাটি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের নিজস্ব মাতৃভাষা রক্ষা, শিক্ষার বিস্তার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনর্জাগরণে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে গত ২৫ বছরের সাফল্য ও অর্জনসমূহ অতিথিদের সামনে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ পারভেজ । তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে এবং প্রতিটি মানুষকে নিজের ভাষায় ক্ষমতায়িত করতে এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল যে ভূমিকা পালন করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর কর্ণেলিউস টুডু। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: খিতিশ খালকো, রানীপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আবু ফরহাদ এবং ফাদার আন্তনী সেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিকেলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক পর্ব। সেখানে ৫টি ভিন্ন ভিন্ন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নাচ এবং গান পরিবেশন করেন। তারা তাদের বক্তব্যে নিজস্ব মাতৃভাষায় নিজেদের অধিকার ও অগ্রযাত্রার কথা ব্যক্ত করেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা সংস্থাটির এই উদ্যোগকে একটি "আলোকবর্তিকা" হিসেবে অভিহিত করেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে তাদের শেকড় ধরে রাখতে সাহায্য করছে।
অনুষ্ঠানে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিন্টু পিরিছ (এসোসিয়েট ডিরেক্টর প্রোগ্রামস), সক্কেয় বিশ্বাস (ফাইনান্স ম্যানেজার), বৃষ্টি পালমা (এইচআর ম্যানেজার), রনজিত কেরকেটা (এরিয়া ম্যানেজার), পলাশ এক্কা, নিকোলাস মুরমু ও লিটন রেমা। এছাড়াও উপজেলা এনজিও সমন্বয় প্রতিনিধি নুরুনবী, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ এই আনন্দ উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল একইভাবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।