নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিশু সিরাতুল জান্নাত (৮)। তিন ভাইবোনের মধ্যে জান্নাত তৃতীয়। বড় ভাই সম্্রাট অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও মেজো ভাই নবাব মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। সে উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ী পীরপাড়া গ্রামের শাহ আলম ও সুলতানা রাজিয়া দম্পতির মেয়ে। জান্নাত স্থানীয় সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, রোল নং-২৬। পড়াশোনায় মেধাবী সিরাত এক সময় বন্ধুদের সাথে নিয়মিত স্কুলে যেত, মাঠে খেলতো। কিন্তু গত এক বছর আগে হঠাৎ এক বিরল (ক্যারোলি সিডম) রোগে অসুস্থ হলে তার স্বাভাবিক জীবন থেমে যায়। অসহায় বাবা-মায়ের আশা-সহৃদয় মানুষের সহায়তা পেলে হয়তো আবারও স্কুলে ফিরে যেতে পারবে তাদের মেয়েটি। ঢাকা পিজি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে “ক্যারোলি সিনডম”বিরল এই রোগটি প্রথম দেখা দিয়েছে। সারাদেশে চারজন রোগির মধ্যে জান্নাত চতুর্থ। ওই শিশুর চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। যা জোগাড় করা তার রিকশাচালক বাবার পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। ফলে টাকার অভাবে থমকে গেছে তার চিকিৎসা। দেশে বিদেশে যারা বিত্তবান রয়েছেন জান্নাতের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসুন। জান্নাতের মা সুলতানা রাজিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া হলে বিভিন্ন পরীক্ষার পর তার লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, সিরাত ‘ক্যারোলী সিনডম’ রোগে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার দরকার। কিন্তু এত গুলো টাকা জোগাড় করা রিকশাচালক বাবার পক্ষে অসম্ভব। “দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা বন্দ থাকায় মেয়ের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার মেয়েটা খুব মেধাবী ছিল। এখন অসুস্থ হয়ে বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। প্রায় এক মাস ধরে টাকার অভাবে কোনো চিকিৎসা নেই। বর্তমানে চিকিৎসা ছাড়াই শয্যাশায়ী অবস্থায় দিন কাটছে ছোট্ট সিরাতুল জান্নাতের। তাই আপনাদের কাছে আকুল আবেদন আপনারা দয়া করে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করুন।” বাবা শাহ আলম বলেন, “ঢাকা শহরে রিকশা চালিয়ে দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ ও মেয়েকে বাঁচানোর জন্য যা ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছি। পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে পথে বসেছি। বাবার দেওয়া দুই শতক জমির ওপর থাকা টিনের ঘরটাও বিক্রি করেছি। এখন থাকার জায়গা নেই, ঠিকমতো খাবারও জোটে না। সমাজের হৃদয়মান মানুষ যৎকিঞ্চিত সাহায্য করলে হয়তো আমার মেয়েটা বাঁচতে পারে।” সিঙ্গেরগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা বেগম বলেন, সিরাত পড়াশোনায় খুব ভালো মেধাবী ছিল। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সে স্কুলে আসতে পারছে না। শিক্ষকরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু সহায়তা করেছেন। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে তা যতেষ্ট নয়। তবে ব্যক্তিগতভাবেও সহযোগিতার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফিরতে পারে আবার স্কুল জীবনে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। বিঃদ্রঃ- সিরাতের মা ও বাবার সাথে যোগাযোগের ঠিকানা ও মোবাইল নং-নগদ, বিকাশ,রকেট-০১৭৫৭-৮৬৭৮৫৮।
দেশবাসির কাছে চিকিৎসা সহায়তা চান জান্নাতের মা
দেশজুড়ে
১ মিনিট পড়া
তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী।