• দেশজুড়ে
  • পরিচ্ছন্ন দিয়াবাড়ি লেক, তবুও কাটেনি দখলদারিত্বের ‘গলার কাঁটা’: শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান

পরিচ্ছন্ন দিয়াবাড়ি লেক, তবুও কাটেনি দখলদারিত্বের ‘গলার কাঁটা’: শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পরিচ্ছন্ন দিয়াবাড়ি লেক, তবুও কাটেনি দখলদারিত্বের ‘গলার কাঁটা’: শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান

উচ্ছেদ অভিযানকে টেকসই করতে রাজউক ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত পদক্ষেপের ঘোষণা স্থানীয় সংসদ সদস্যের; দূষণমুক্ত জলাশয় ফেরাতে অনড় এলাকাবাসী।

রাজধানীর উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের নান্দনিক দিয়াবাড়ি লেক এখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের সাক্ষী। একদিকে দীর্ঘ শ্রম ও স্বেচ্ছাশ্রমে টলটলে পানির স্বপ্ন নিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে লেকের উপরিভাগ, অন্যদিকে এর দুই পাড়জুড়ে জেঁকে বসা অবৈধ স্থাপনাগুলো যেন প্রশাসনের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে বারবার উচ্ছেদ অভিযান চললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ফলে এবার এই দখলদারিত্বের স্থায়ী অবসানে ‘সমন্বিত উচ্ছেদ’ (Coordinated Eviction) ও ‘টেকসই নগর পরিকল্পনা’ (Sustainable Urban Planning)-র পথে হাঁটছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

৬১ দিনের লড়াই: ময়লার স্তূপ থেকে মুক্তির গল্প কয়েক মাস আগেও দিয়াবাড়ি লেক ছিল পচা আবর্জনা আর কচুরিপানার ভাগাড়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে টানা ৬১ দিন নিরলস পরিশ্রম করে লেকটি পরিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বাসিন্দাদের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে লেকের দৃশ্যপট বদলে গেলেও, পাড়ের অবৈধ দখলদারিত্ব এখন মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন জানান, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তারা লেক পরিষ্কার করলেও বড় বড় অবৈধ স্থাপনাগুলো সরানো সম্ভব হয়নি, যা লেকের অস্তিত্বকে পুনরায় সংকটে ফেলছে।

দখলদারিত্বের বহুমুখী রূপ ও পরিবেশ বিপর্যয় লেকের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে বিচিত্র সব অবৈধ স্থাপনা। সেখানে আছে বিলাসবহুল গাড়ির শোরুম (Car Showroom), গরুর খামার, বসতবাড়ি, এমনকি প্লাস্টিকের কারখানা ও ভাঙারির দোকান। অভিযোগ রয়েছে, লেকের আশপাশে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের সময় পাইলিংয়ের মাটি সরাসরি লেকের পানিতে ফেলায় এর গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একসময়ের স্বচ্ছ নীল পানি এখন বর্জ্যের সংমিশ্রণে আলকাতরার মতো কালচে রং ধারণ করেছে।

স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা মূলত ‘প্লাস্টিক রিসাইক্লিং’ (Plastic Recycling) করে পরিবেশ দূষণ কমাচ্ছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, এসব কারখানায় ফোম ও প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।

টেকসই উচ্ছেদের লক্ষ্যে ‘মাস্টার প্ল্যান’ বারবার উচ্ছেদের পর দখলদারদের ফিরে আসা বন্ধ করতে এবার কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনস্বার্থে লেকের আশপাশে একটি অবৈধ স্থাপনাও রাখা হবে না। তিনি বলেন, “রাজউক (RAJUK) এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমরা ইতোমধ্যে আলোচনা করেছি। উচ্ছেদ অভিযান কেবল লোকদেখানো হবে না, এটি হবে টেকসই (Sustainable)। একবার উচ্ছেদের পর কেউ যেন সেখানে পুনরায় দখল নিতে না পারে, সেজন্য আমরা স্থায়ী সীমানা নির্ধারণ ও নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করছি।”

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK) এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (DNCC) সম্মিলিতভাবে এই ‘গ্রেটার এভিকশন ড্রাইভ’ (Greater Eviction Drive) পরিচালনা করবে।

জনদাবি: নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র ও সুস্থ পরিবেশ উত্তরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, দিয়াবাড়ি লেককে ঘিরে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক। অবৈধ দখলমুক্ত হলে এই লেক কেবল একটি জলাশয় নয়, বরং রাজধানীর ফুসফুস হিসেবে কাজ করবে। প্লাস্টিক বর্জ্য ও শিল্প বর্জ্য (Industrial Waste) সরাসরি পানিতে ফেলা বন্ধ করতে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন পরিবেশবাদীরা।

দিয়াবাড়ি লেক রক্ষায় প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, এবার অন্তত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দৃঢ়তার মাধ্যমে দখলমুক্ত হবে তাদের প্রাণের এই লেক।

Tags: urban planning environmental pollution rajuk dncc plastic recycling eviction drive diyabari lake illegal structures uttara news encroachment