• জাতীয়
  • জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের ডিজেল চায় বাংলাদেশ: দিল্লির ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় ঢাকা

জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের ডিজেল চায় বাংলাদেশ: দিল্লির ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় ঢাকা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারতের ডিজেল চায় বাংলাদেশ: দিল্লির ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা; নিজস্ব মজুত ও শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নয়াদিল্লি।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের ‘Energy Security’ বা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। আপৎকালীন সংকট মোকাবিলায় ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিশেষ অনুরোধ বর্তমানে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নয়াদিল্লির পর্যবেক্ষণ ও সক্ষমতা যাচাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত তার নিজস্ব ‘Strategic Reserve’ বা অভ্যন্তরীণ মজুত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া দেশটির তেল শোধনাগারগুলোর ‘Refining Capacity’ বা পরিশোধন সক্ষমতা এবং আগামী দিনগুলোতে নিজস্ব চাহিদার গ্রাফ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। রণধীর জয়সোয়াল স্পষ্ট করেন যে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রেখেই বাংলাদেশের এই অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে মোদি সরকার।

আঞ্চলিক সংকটে ভারতের ভূমিকা কেবল বাংলাদেশই নয়, বর্তমান অস্থিতিশীল ‘Global Market’ পরিস্থিতিতে পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের জন্য ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে আরও বেশ কিছু প্রতিবেশী দেশ। মুখপাত্র জানান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ থেকেও একই ধরণের অনুরোধ পেয়েছে নয়াদিল্লি। বর্তমানে এই দেশগুলোর আবেদনগুলোও ভারতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরীক্ষা করে দেখছে। দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব কমাতে ভারতের এই ভূমিকা অত্যন্ত ‘Strategic’ বা কৌশলগত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিকল্প উৎসের সন্ধানে ঢাকা: রুশ তেল ও মার্কিন ছাড় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ভারতের কাছে ডিজেল চাওয়ার ঠিক এক দিন আগে, অর্থাৎ বুধবার, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘Temporary Waiver’ বা সাময়িক ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। ভারতের মতো বাংলাদেশও যাতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল কিনতে পারে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মূলত জাতীয় অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।

জ্বালানি কূটনীতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল বা সমজাতীয় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক ‘Supply Chain’ চরমভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এমন অবস্থায় ভারত থেকে সরাসরি ডিজেল আমদানি করতে পারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় স্বস্তির কারণ হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি সরবরাহ করা গেলে ‘Logistics’ বা পরিবহন খরচও অনেকটা সাশ্রয় হবে। এখন দিল্লির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের আসন্ন দিনগুলোর জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা।

Tags: middle east india bangladesh global economy randhir jaiswal energy security fuel crisis russian oil diesel supply refinery capacity oil diplomacy