আসন্ন ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন ও বিশেষ প্রস্তুতি বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর ও বহির্নোঙরে চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। এর বাইরে আরও ৭টি জাহাজ আসার অপেক্ষায় রয়েছে। আজ মঙ্গলবার ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ‘প্রাচী’ এবং ২০ মার্চ প্রায় ৭১ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ‘সোনানগোল বেঙ্গুইলা’ জাহাজ দুটির বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। এছাড়াও ২৪ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল নিয়ে আরও কয়েকটি জাহাজ আসবে।
কাস্টমসের ৫ বিশেষ টিম গঠন এই জাহাজগুলো থেকে দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ৫টি বিশেষ টিম গঠন করেছে। এই টিমগুলো ছুটির মধ্যেও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সাথে সমন্বয় করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জাহাজগুলোকে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে।
ছুটির সময়সূচি ও কার্যক্রম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৮ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি থাকলেও ঈদের দিন কেবল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ‘ক্লোজড হলিডে’ পালিত হবে। এছাড়া ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসেও সাধারণ ছুটি থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত মাশুল প্রদান সাপেক্ষে এবং শুল্ক বিভাগের অনুমতি নিয়ে ছুটির দিনগুলোতেও জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা যাবে।
নিরাপত্তা ও সমন্বয় বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের সময় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সাথে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি অফডকগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা), যাতে রপ্তানি কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছুটির দিনেও তারা দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছেন।