আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। এই মাহেন্দ্রক্ষণে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার তালিকায় পোশাকের পাশাপাশি গহনাও থাকে বিশেষ গুরুত্বে। ঠিক এই সময়েই দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের সুখবর দিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন এই হ্রাসকৃত বাজারদর।
স্বর্ণের বাজারে বড় পতন: ক্রেতাদের মাঝে চাঞ্চল্য
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এই সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। সবশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উচ্চমানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিয়ের মৌসুম ও ঈদ শপিংয়ের বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এক নজরে স্বর্ণের নতুন মূল্য তালিকা
শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে চার ক্যাটাগরির স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকায়।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: ঐতিহ্যবাহী এই স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ মার্চও স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। পর পর দুই দফা দাম কমায় বাজারে গহনা কেনার চাহিদা বা ‘Market Demand’ অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রুপার দামেও স্বস্তি: সাধারণ ক্রেতার নাগালে
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও এবার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ভরিতে ২৯২ টাকা কমিয়ে নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে। বাজুসের তালিকা অনুযায়ী:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।
মূল্য সমন্বয়ের পরিসংখ্যান ও বাজার বিশ্লেষণ
চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৪৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হলেও ১৭ বার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। তুলনায় দেখা গেছে, বিগত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল। অন্যদিকে, রুপার দাম চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা এবং কারেন্সি মার্কেটে ডলারের উঠানামার ফলে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম এত ঘনঘন প্রভাবিত হচ্ছে। তবে উৎসবের আগে এই ‘Price Drop’ বা দাম কমার প্রবণতা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের গহনা কেনার পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে সহায়ক হবে।
যারা ঈদে বিনিয়োগ হিসেবে বা উপহার হিসেবে স্বর্ণের গহনা কিনতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য বর্তমান এই ‘Market Rate’ অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।