সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে লিখিত এক জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত দুই পক্ষের (ইরান- উপসাগরী দেশ) সম্পর্কে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে প্রতিবেশী হিসেবে ইরান ও সৌদি আরবকে একে অপরের প্রয়োজন রয়েছে। এনায়াতি বলেন, ‘আমরা একে অপরকে ছাড়া চলতে পারি না। তাই সম্পর্ক নিয়ে একটি গুরুতর পর্যালোচনা দরকার।’
তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ দশকে এই অঞ্চলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা মূলত এক ধরনের একপেশে নীতি এবং বাইরের শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফল। সম্প্রতি সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও নাকচ করেছেন এনায়াতি।
তিনি বলেন, এই হামলার জন্য ইরান দায়ী নয়। যদি ইরান এ ধরনের হামলা চালাত, তাহলে তা প্রকাশ করত। তবে এসব হামলার জন্য কারা দায়ী—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
ইরানের এই কূটনীতিক জানান, সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইরানি হাজিদের যাতায়াত সহজ করা এবং চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার মতো বিষয়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলার জন্য সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে না—এ প্রতিশ্রুতি নিয়েও রিয়াদের সঙ্গে আলোচনা করছে তেহরান।
উপসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এনায়াতি বলেন, এই যুদ্ধ ইরান ও পুরো অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোকে এ সংঘাতের বাইরে থাকতে হবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এগুলো নিশ্চিত করা গেলেই আমরা একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে পারব।