• জাতীয়
  • শিগগির সুপরিকল্পিত ও সময়োপযোগী কিছু উদ্যোগ নিয়ে হাজির হবেন প্রধানমন্ত্রী

শিগগির সুপরিকল্পিত ও সময়োপযোগী কিছু উদ্যোগ নিয়ে হাজির হবেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের এক মাস

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
শিগগির সুপরিকল্পিত ও সময়োপযোগী কিছু উদ্যোগ নিয়ে হাজির হবেন প্রধানমন্ত্রী

খুব শিগগির আরো সুপরিকল্পিত ও সময়োপযোগী কিছু উদ্যোগ নিয়ে হাজির হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ থেকে এক মাস আগে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই যাত্রার এক মাস পূর্ণ হলো। সময়টা খুব বড় না হলেও এই সময়ের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রথম মাসে সরকারের কর্মকাণ্ডে যেমন আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে আরো গতি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় সামনে নতুন আরো পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করা, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি এবং প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে। প্রথম মাসের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে আগামী দিনগুলোতে আরো দৃঢ় ও কৌশলগতভাবে এগোতে চান সরকারপ্রধান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রথমবারের মতো সংসদে যাওয়া তারেক রহমান নির্বাচিত হন সংসদ নেতা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিন থেকেই তিনি প্রশাসন ঢেলে সাজানো এবং মাঠ প্রশাসন থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত গতি ফেরাতে উদ্যোগ নেন।

এমনকি ছুটির দিন অফিস করে নজির স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষের জন্য দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহার এবং নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘রকেটের’ গতিতে ছুটে চলেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারেক রহমান শুধু নির্দেশনা দিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি। নিজে সশরীরে উপস্থিত থেকে কাজ এগিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আড়ম্বর ভেঙে সাধারণ মানুষের কাতারে শামিল হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব শুরুর মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। এরপর একে একে কৃষকের ঋণ পরিশোধ, সারা দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং পুরোহিতসহ ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা, সারা দেশে ৫৪ জেলায় ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। তারেক রহমানের এই সাহসী পদক্ষেপগুলো দেশের মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে নির্বাচনের মাত্র এক মাসের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষার এমন নজির খুব একটা নেই বলে উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলেছেন, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসার পর ইশতেহারের কথা ভুলে গেলেও তিনি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সময় ইশতেহারটি যেভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন এবং মানুষের প্রত্যাশার কথা জানতে চেয়েছেন তাতেও ছিল নতুনত্ব। এখন তিনি তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। তবে এই পথচলায় কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা আর্থিক সংস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও তারেক রহমান পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে জনকল্যাণ লক্ষ্য হলে এটি সম্ভব।

গত সোমবার খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনের সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আর এই কাজ দেশের মালিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই হচ্ছে সব ক্ষমতার উত্স। দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। মালিক যদি সঙ্গে থাকে, তাহলে আমরা যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে পারব।’

বিশ্লেষকদের মতে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে বর্তমানের এই অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যেতে পারে। আর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা এই সরকার যদি জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে পারে, তবে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছুটির দিনেও অফিস করেছেন। শুধু তা-ই নয়, সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থেকে প্রত্যাশা এবং নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করেছেন, যার ধারাবাহিকতায় গত এক মাসে জনগুরুত্বপূর্ণ এই কাজগুলো করতে পেরেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশের মানুষ আগামী দিনে আরো নতুনত্ব দেখতে পাবে। নতুন আরো পরিকল্পনা তিনি বাস্তবায়ন করবেন।’

এ ছাড়া পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সমাধানের মধ্য দিয়ে সরকার আরো ভালো অবস্থানে যাবে বলে আশা করেন কেউ কেউ। এ ছাড়া ইরানে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশে সরকার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছে, এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ‘বিএনপি সরকার তো দীর্ঘদিন পরে ক্ষমতায় এলো। ক্ষমতায় আসার পর তাদের যে জনসেবার আগ্রহ, স্পৃহা, আকাঙ্ক্ষা, সেটা তাদের মনে প্রচণ্ডভাবে ছিল। এ ছাড়া সর্বশেষ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মান, এর পরে গরিবদের মধ্যে সবকিছু বিলিয়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে অনেক ইতিবাচক।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে কোনো সরকার অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বলে আমার জানা নেই। বিএনপি সরকার অবশ্যই সাধুবাদ পেতে পারে এবং সামনের দিনগুলোতেও তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি সামাজিক ইস্যু এবং পার্লামেন্টের যে ইস্যুগুলো আছে, যেখানে বিরোধী দল কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে, জুলাই সনদ ইস্যুগুলোর সলভ হওয়া উচিত।’

এ ছাড়া জ্বালানি তেল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়েনি। সরকার কিছুটা কন্ট্রোলিং অবস্থায় ছিল। এখন সেই বিধি-নিষেধ উঠিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ চলমান থাকায় ভবিষ্যতে দাম বাড়তে পারে বা না-ও বাড়তে পারে, তবে প্রাথমিক ধাক্কাটা সরকার ভালোভাবেই কাটাতে পারছে।’

এ ছাড়া ইরানে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশে সরকার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছে, এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ‘বিএনপি সরকার তো দীর্ঘদিন পরে ক্ষমতায় এলো। ক্ষমতায় আসার পর তাদের যে জনসেবার আগ্রহ, স্পৃহা, আকাঙ্ক্ষা, সেটা তাদের মনে প্রচণ্ডভাবে ছিল। এ ছাড়া সর্বশেষ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মান, এর পরে গরিবদের মধ্যে সবকিছু বিলিয়ে দেওয়া—সব মিলিয়ে অনেক ইতিবাচক।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে কোনো সরকার অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বলে আমার জানা নেই। বিএনপি সরকার অবশ্যই সাধুবাদ পেতে পারে এবং সামনের দিনগুলোতেও তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি সামাজিক ইস্যু এবং পার্লামেন্টের যে ইস্যুগুলো আছে, যেখানে বিরোধী দল কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে, জুলাই সনদ ইস্যুগুলোর সলভ হওয়া উচিত।’

এ ছাড়া জ্বালানি তেল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়েনি। সরকার কিছুটা কন্ট্রোলিং অবস্থায় ছিল। এখন সেই বিধি-নিষেধ উঠিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ চলমান থাকায় ভবিষ্যতে দাম বাড়তে পারে বা না-ও বাড়তে পারে, তবে প্রাথমিক ধাক্কাটা সরকার ভালোভাবেই কাটাতে পারছে।’

Tags: হাজির প্রধানমন্ত্রী শিগগির সুপরিকল্পিত সময়োপযোগী