বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে গতির ঝড় তোলা বোলারদের তালিকায় এখন সবার শীর্ষে নাহিদ রানা। জাতীয় দলে অভিষেকের মাত্র দুই বছরের মধ্যেই নিজের গতি আর আগ্রাসন দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছেন এই তরুণ পেসার। পাকিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজে তার বিধ্বংসী বোলিং কেবল দর্শকদেরই রোমাঞ্চিত করেনি, বরং মুগ্ধ করেছে কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও বর্তমান জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকেও। বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আশরাফুল জানালেন, কেন একজন ১৫০ কিলোমিটার গতির বোলার থাকা যেকোনো দলের জন্য ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করে।
বিপক্ষের জন্য আতঙ্ক, নিজের জন্য স্বস্তি মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন, আধুনিক ক্রিকেটে গতির গুরুত্ব অপরিসীম। নাহিদ রানার বোলিং স্টাইল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "একজন ব্যাটার হিসেবে আমি সবসময় মনে করি, আপনার প্রতিপক্ষ দলে যদি ১৫০ কিলোমিটার (150 km/h) গতির একজন বোলার থাকে, সেটা যেকোনো ব্যাটারের জন্য একটা সত্যিকারের আতঙ্ক। এই ধরনের গতি সামলানো কেবল শারীরিক নয়, বরং একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ।" আশরাফুলের মতে, নাহিদ রানার মতো একজন Pacer থাকা মানেই ম্যাচের শুরুতে প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া।
অনুশীলনে বাড়তি সুবিধা নাহিদ রানা কেবল প্রতিপক্ষের জন্যই ভয়ের কারণ নন, বরং তিনি নিজ দলের ব্যাটারদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখছেন। আশরাফুল বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, "দলে এমন একজন বোলার থাকলে নেটে আমাদের ব্যাটাররা ১৫০ গতির বল খেলার সুযোগ পায়। ফলে মূল ম্যাচে যখন তারা অন্য ফাস্ট বোলারদের মুখোমুখি হয়, তখন তাদের জন্য ব্যাটিং করা অনেক সহজ হয়ে যায়। শান্ত বা নির্বাচকদের আমি সবসময় এটাই বুঝিয়েছি যে, এমন একজন গতিদানব দলে রাখা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের ব্যাটিং ইউনিটকেও শক্তিশালী করবে।"
রংপুর রাইডার্স থেকে জাতীয় দল: এক অনন্য বিবর্তন নাহিদ রানাকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হয়েছে আশরাফুলের। বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের (Rangpur Riders) ক্যাম্পে এবং জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে তার সাথে কাজ করেছেন তিনি। আশরাফুল বলেন, "গত দুই মৌসুম আমি রংপুরের সঙ্গে ছিলাম এবং আমরা নাহিদ রানাকে দলে নিয়েছিলাম। তখন থেকেই দেখেছি ওর উন্নতি করার তাড়না। গত বছর ওর লাইন-লেন্থ (Line-Length) নিয়ে কিছুটা সমস্যা থাকলেও, সে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তা কাটিয়ে উঠেছে।"
পাকিস্তান সিরিজে সাফল্যের মুকুট সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজে নাহিদ রানার পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অনবদ্য। পুরো সিরিজে ৮টি উইকেট শিকার করে তিনি কেবল ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিরিজ’ (Player of the Series)-ই হননি, বরং পাকিস্তানকে তাদের ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে হারাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। তার এই গতির ম্যাজিকেই বাংলাদেশ আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে (ODI Ranking) নবম স্থানে উঠে এসেছে।
আশরাফুলের বিশ্বাস, নাহিদ রানা যদি তার ফিটনেস এবং ছন্দের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তবে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ভয়ংকর পেসার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটে নাহিদ রানার এই অন্তর্ভুক্তি টাইগার ক্রিকেটকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে গতিই হয়ে উঠছে মূল অস্ত্র।