• দেশজুড়ে
  • আনোয়ারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী শ্রীঘরে, শাশুড়ি পলাতক

আনোয়ারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী শ্রীঘরে, শাশুড়ি পলাতক

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
আনোয়ারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী শ্রীঘরে, শাশুড়ি পলাতক

১৯ বছরের সুমি ও ২ বছরের ওয়াজিহার নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা; নেপথ্যে কি পারিবারিক কলহ নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর থেকে মা ও তাঁর মাত্র দুই বছর বয়সী শিশুকন্যার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই নিহতের স্বামী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে (২৮) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে, যা এখন গভীর তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মর্মান্তিক উদ্ধার ও আইনি পদক্ষেপ গত মঙ্গলবার বিকেলে আনোয়ারার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক Asrayan Project-এর একটি বসতঘরের রান্নাঘর থেকে ১৯ বছর বয়সী সুমি আক্তার ও তাঁর শিশুকন্যা ওয়াজিহা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে মা ও মেয়ের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি Murder Case বা হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সুমির স্বামী মিজানুর রহমান ও শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্বামীর কারাবাস ও শাশুড়ির পলায়ন আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান এখন কারাগারে থাকলেও দ্বিতীয় আসামি ও নিহতের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম বর্তমানে পলাতক। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই রিজিয়া বেগমের আত্মগোপনে চলে যাওয়া অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের নিহত সুমির পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। বাদী নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বোন ও ভাগ্নিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে মা ও মেয়ের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, তবে পরিবারের শোকাতুর আহাজারি থামছে না।

তদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের Family Feud বা পারিবারিক কলহই এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্য কারণ হতে পারে। তবে পুলিশ এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। ওসি জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। Post-mortem Report বা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আনোয়ারার এই ঘটনা আবারও পারিবারিক সহিংসতা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভেতর এমন ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কোন সত্যটি বেরিয়ে আসে।