টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup) সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই ইংল্যান্ড ক্রিকেটে চলছে কাঁটাছেঁড়া। বিশেষ করে, ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতার পর জস বাটলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে সমালোচনার ঝড়ে এখনই দমে যেতে রাজি নন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। নিজের ফর্ম এবং দলের হয়ে খেলার ক্ষুধা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই বাটলারের মনে। বরং এক সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে জাতীয় দলের হয়ে নতুন শুরুর ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাসী তিনি।
রানখরা ও ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা এবারের বিশ্বকাপে বাটলারের পরিসংখ্যান একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের জন্য ছিল বেশ বেমানান। ৮ ইনিংসে করেছেন মাত্র ৮৭ রান। এমনকি সবশেষ চারটি আইসিসি (ICC) ইভেন্ট মিলিয়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র একটি অর্ধশতক। এমন নাজুক ফর্মের (Form) কারণে তার দলে থাকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে বাটলার মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ক্যারিয়ারের সেরা ক্রিকেট খেলেছেন এবং সাময়িক এই অফ-ফর্ম কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য তার আছে।
মানসিক সতেজতায় ফ্রান্স সফর বিশ্বকাপের ধকল এবং নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নিজেকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করতে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে সময় কাটিয়েছেন বাটলার। নিজের পডকাস্টে (Podcast) তিনি একে একটি ‘প্রয়োজনীয় বিরতি’ (Essential Break) হিসেবে উল্লেখ করেন। ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থেকে নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বাটলারের মতে, “কখনো কঠোর পরিশ্রমের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না, এটি মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই একজন পেশাদারের কাজ।”
নতুন নেতৃত্ব ও ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া অধিনায়কত্বের চাপমুক্ত বাটলার এখন দলের নতুন কাঠামোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ইংল্যান্ডের সাদা বলের হেড কোচ (Head Coach) ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং বর্তমান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের অধীনে দলের পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি। বাটলার বলেন, “আমি এখন আর নির্বাচক বা অধিনায়ক নই, তাই দলে আমার জায়গার বিষয়ে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে আমি আবারও ইংল্যান্ডের হয়ে বড় মঞ্চে পারফর্ম করতে মুখিয়ে আছি।”
সামনের লক্ষ্য: ভারত সিরিজ ও আইপিএল ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ECB) সঙ্গে বাটলারের কেন্দ্রীয় চুক্তির (Central Contract) মেয়াদ এখনও প্রায় ১৮ মাস বাকি। এই সময়ের মধ্যে আবারও জাতীয় দলে নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করতে চান তিনি। আগামী জুলাইয়ে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ সাদা বলের সিরিজ (White-ball Series) অনুষ্ঠিত হবে। ৫টি টি-টোয়েন্টি ও ৩টি ওয়ানডে ম্যাচের এই সিরিজে ইংল্যান্ড স্কোয়াডে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী বাটলার। এর আগে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (IPL) গুজরাট টাইটান্সের হয়ে নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে চান এই মারকুটে ব্যাটার।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বাটলারের মতো একজন ‘ম্যাচ উইনার’ যদি দ্রুত ছন্দে ফিরতে পারেন, তবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইংল্যান্ড দল বড় ধরনের শক্তি ফিরে পাবে। তবে আপাতত সবার নজর জুলাইয়ের ভারত সিরিজের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে বাটলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গতিপথ।