বগুড়ার শেরপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য। নিথর দেহের স্তূপের মাঝে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া দেড় বছর বয়সী এক শিশুর করুণ কাহিনী নাড়া দিয়েছে পুরো দেশকে। বাবা-মা ও স্বজনদের হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া এই শিশুটির পাশে এবার পরম মমতায় দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশুটির উন্নত চিকিৎসা (Advanced Treatment) থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের যাবতীয় ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নিথর দেহের মাঝে প্রাণের স্পন্দন: এক অলৌকিক বেঁচে থাকা বুধবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি মাইক্রোবাস ১২ জন যাত্রী নিয়ে বগুড়ার শেরপুর এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়িটি থেকে যখন রক্তাত দেহগুলো উদ্ধার করা হচ্ছিল, তখন সেখানে পাওয়া যায় অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকা এক শিশুকে। দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। শিশুটি নিজে গুরুতর মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হলেও প্রাণের স্পন্দন হারায়নি। স্থানীয় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে’ (NINS) স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
চিকিৎসার ব্যয়ভার ও সরাসরি তদারকি: প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির খোঁজ নিতে শুরু করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বগুড়ার জেলা প্রশাসক (DC) এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির শারীরিক অবস্থা (Health Status) সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের কার্পণ্য করা না হয়। ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন এবং সেখানে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম (Specialist Medical Team) প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় (Medical Expenses) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বহন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট: যা ঘটেছিল বুধবার সকালে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি মাইক্রোবাস রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। শেরপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হলে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা শিশুটির বাবা-মাসহ আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ঈদের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটি সাজানো পরিবার মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এমন বিয়োগান্তক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
অভিভাবকত্ব ও আগামীর দায়বদ্ধতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং এই এতিম শিশুটির ভবিষ্যতের অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার নিয়মিত আপডেট (Status Update) সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রমা (Trauma) ও শারীরিক আঘাতের শিকার এই শিশুটি যেন সঠিক পুনর্বাসন (Rehabilitation) পায়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নাগরিক সমাজ প্রধানমন্ত্রীর এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপ কেবল একজন ব্যক্তির সহায়তা নয়, বরং বিপন্ন মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার এক অনন্য নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।