• আন্তর্জাতিক
  • হাইফার তেল শোধনাগারে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: দাউ দাউ করে জ্বলছে ইসরায়েলের বন্দরনগরী

হাইফার তেল শোধনাগারে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: দাউ দাউ করে জ্বলছে ইসরায়েলের বন্দরনগরী

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
হাইফার তেল শোধনাগারে ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: দাউ দাউ করে জ্বলছে ইসরায়েলের বন্দরনগরী

সাউথ পার্সে হামলার বদলা নিতেই তেহরানের এই 'এনার্জি স্ট্রাইক'; আগুনের লেলিহান শিখায় বিপর্যস্ত হাইফা, অন্ধকারে ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকা।

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা ছাড়িয়ে এবার সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামো বা ‘Energy Infrastructure’ লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসফিল্ড সাউথ পার্সে ইসরায়েলি আক্রমণের দাঁতভাঙা জবাব দিতে এবার ইহুদি রাষ্ট্রটির প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও বন্দরনগরী হাইফার (Haifa) প্রধান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় পরিশোধনাগারটিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাবে পুরো অঞ্চলটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

আগুনের লেলিহান শিখা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থায় প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, হাইফার ওই বিশাল তেল শোধনাগারে (Oil Refinery) দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। হামলার তীব্রতায় পরিশোধনাগারের বেশ কিছু ইউনিট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ‘মেগান ডেভিড অ্যাডম’ (Magen David Adom) জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত একজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীর কয়েক ডজন ইউনিটকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে অন্ধকার ইসরায়েল হাইফার এই তেল শোধনাগারটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উৎস। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই ইসরায়েলের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অনেক জায়গায় ‘Power Grid’ বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইসরায়েলি জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন (Eli Cohen) হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছেন, তেল পরিশোধনাগারে বড় ধরনের কোনো স্থায়ী ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং অনেক জায়গায় ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ সচল করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে জনজীবনে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সাউথ পার্সে হামলার প্রতিশোধ? সামরিক বিশ্লেষকরা এই আক্রমণকে একটি ‘Tit-for-tat’ বা পাল্টা হামলার কৌশল হিসেবে দেখছেন। গত বুধবার ইরান ও বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসফিল্ড ‘সাউথ পার্স’-এ (South Pars) বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তেহরান তখনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ইরানের জ্বালানি খাতে হাত দিলে ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোও নিরাপদ থাকবে না। সেই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাইফার তেল শোধনাগারে এই সুনির্দিষ্ট ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো।

জ্বালানি যুদ্ধের নতুন মাত্রা ইরানের এই হামলা সরাসরি ইসরায়েলের অর্থনীতিতে আঘাত হানার একটি সুনিপুণ কৌশল। বন্দরনগরী হাইফা ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার এবং এর তেল শোধনাগারটি দেশটির ‘Industrial Hub’ হিসেবে পরিচিত। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ‘Gas and Oil Sector’ লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ না করবে, ততক্ষণ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমস্ত জ্বালানি স্থাপনা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে থাকবে।

এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের (Full-scale War) আশঙ্কা আরও প্রবল হলো। বিশ্ববাজারে তেলের দাম (Oil Price) এই অস্থিরতার কারণে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বা ‘IDF’ এখন এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tags: middle east power outage missile strike iran israel oil refinery energy war south pars haifa refinery