পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন আবহেও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ‘গণভোট’ বা Referendum-এর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—ভোট যদি বৈধ বা ‘হালাল’ হয়, তবে গণভোট কেন ‘হারাম’ হবে? সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এর সমাধান না হলে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুর ৬০ ফিট সংলগ্ন মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জুলাই সনদ ও সংসদীয় বিতর্ক জামায়াত আমির তার বক্তব্যে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে সামনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্পিকার ইতিমধ্যে এই সনদটি আমলে নিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করতে গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “সংসদে যদি এই সমস্যার যৌক্তিক সমাধান না করা হয়, তবে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। দেশের ৭০ শতাংশ সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা আমাদের Political Mandate আদায় করে ছাড়ব।”
পরিবহন খাত ও সরকারি ব্যর্থতা নিয়ে তোপ উৎসবের মৌসুমে ঘরমুখো মানুষের চরম ভোগান্তি নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। বিশেষ করে Transport Management বা পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সরকারের উদাসীনতাকে তিনি ‘চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, “ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষ বাস ভাড়া নিয়ে যে অরাজক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের যে ধরনের ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ ভূমিকা থাকা উচিত ছিল, তা দেখা যায়নি। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এই সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।”
গাজা ও ইরান পরিস্থিতি: বৈশ্বিক সংহতি কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চলমান Geopolitical Crisis নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। ফিলিস্তিনের গাজা এবং ইরানে চলমান অস্থিরতা ও মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম উম্মাহ আজ বর্বরতার শিকার। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই মজলুমের সহায় হবেন এবং বিজয় দান করবেন।” দেশবাসী ও প্রবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বিশ্বশান্তির জন্য দোয়া করেন।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ও জামায়াতের অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ সংক্রান্ত গুঞ্জন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চললেও, আমিরের বক্তব্যে সরাসরি সেই প্রসঙ্গের চেয়ে ‘জুলাই সনদ’ ও ‘গণভোট’ বা Public Opinion-এর গুরুত্বই বেশি ফুটে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত এখন আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জনমত গঠন করে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের কৌশল নিয়েছে।