ঈদুল ফিতরের আবহে ঢালিউডের রূপালি পর্দা এখন এককভাবে দখল করে রেখেছেন মেগাস্টার শাকিব খান। প্রতি ঈদের মতো এবারও প্রেক্ষাগৃহে তাঁর অভিনীত সিনেমার জন্য দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমাটি বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছে। তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যের মাঝেই দানা বেঁধেছে কিছু বিতর্ক। সার্ভার জটিলতা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা—সবকিছু নিয়েই এবার সরাসরি কথা বলেছেন নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ।
বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য ও রেকর্ডের হাতছানি ঈদের তৃতীয় দিনেও প্রেক্ষাগৃহগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। দর্শকের চাপে প্রতিটি শো ‘হাউজফুল’ (Housefull) যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন পরিচালক। আবু হায়াত মাহমুদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “বিগত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের এমন উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়নি। কালেকশনের দিক থেকে এটি ঢালিউডের সাম্প্রতিক সময়ের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের এই প্রবল উন্মাদনা আমাদের পুরো টিমকে অনুপ্রাণিত করেছে।”
নেতিবাচক প্রচারণা ও কারিগরি মান নিয়ে বিতর্ক সোশ্যাল মিডিয়ায় সিনেমার ভিএফএক্স বা সিজিআই (CGI) পার্ট নিয়ে চলা নেতিবাচক সমালোচনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘অপপ্রচার’ হিসেবে দেখছেন নির্মাতা। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সিনেমার কিছু দৃশ্যের কালার গ্রেডিং নষ্ট করে সেগুলোকে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “সিনেমা দেখে কারো ব্যক্তিগতভাবে ভালো না লাগতেই পারে, আমরা সেই মতামতকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু টেকনিক্যাল বিষয়গুলোকে বিকৃত করে উপস্থাপন করাটা দুঃখজনক। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে আমাদের সিজি (CG) পার্টগুলোকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
সার্ভার জটিলতা ও প্রোডাকশন হাউসের অবস্থান সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর কিছু প্রেক্ষাগৃহে সার্ভার জটিলতা এবং শো বিলম্বে শুরু হওয়া নিয়ে দর্শকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল প্রোডাকশন হাউসকে। নির্মাতা জানান, বিপুল সংখ্যক অডিয়েন্স লোড সামলাতে গিয়ে শুরুতে কিছুটা কারিগরি সমস্যা হলেও দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। টেক-স্যাভি (Tech-savvy) আধুনিক দর্শকদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও, সিনেমার মূল আকর্ষণ ও গল্প যে দর্শকদের হলে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, তা বর্তমানের ‘হাউজফুল’ রিপোর্টই প্রমাণ করে।
সুপারস্টারের তদারকি ও আগামীর পথ শাকিব খান নিজে এই সিনেমার সাফল্যের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী এবং প্রতিটি বিষয়ের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখছেন। সিনেমার বর্তমান অবস্থা, টেকনিক্যাল ফিডব্যাক এবং হল মালিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন এই সুপারস্টার। তাঁর ব্যক্তিগত তদারকি সিনেমার মান রক্ষা এবং দর্শকদের অভিযোগ নিরসনে বড় ভূমিকা রাখছে। ‘প্রিন্স’ সিনেমার এই জয়যাত্রা ঢালিউডের সামগ্রিক মার্কেট ভ্যালু (Market Value) বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।