• জাতীয়
  • মজুত পর্যাপ্ত, তবু কেন তেলের সংকট? জ্বালানি সরবরাহের আসল চিত্র তুলে ধরলেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

মজুত পর্যাপ্ত, তবু কেন তেলের সংকট? জ্বালানি সরবরাহের আসল চিত্র তুলে ধরলেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
মজুত পর্যাপ্ত, তবু কেন তেলের সংকট? জ্বালানি সরবরাহের আসল চিত্র তুলে ধরলেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত বিক্রির চাপ ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জই সাময়িক অস্থিরতার কারণ; আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে রাজধানী যখন আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই আলোচনায় দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি। গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে তেলের সংকট নিয়ে যে গুঞ্জন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে ঈদের ছুটি পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার আকস্মিক বৃদ্ধিই এই সাময়িক পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

মজুত ও চাহিদার ব্যবধান: মন্ত্রীর বিশ্লেষণ

সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, "আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারে তেলের পর্যাপ্ত মজুত (Strategic Reserve) রয়েছে। তেলের অভাব নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে ঈদের সময় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় তেলের বিক্রি আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ চাহিদার (Market Demand) চাপ সামলাতে গিয়েই সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা সাময়িক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে খুচরা পর্যায়ে তেলের সরবরাহ চেইন (Supply Chain) স্বাভাবিক রাখতে লজিস্টিক সাপোর্ট বা পরিবহনগত সীমাবদ্ধতাও একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে।

ফিরতি যাত্রায় বাড়তি চাপ ও 'প্যানিক বায়িং'

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছরই ঈদের সময় দেশজুড়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস এবং মোটরসাইকেলের ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটিতে তেলের পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ ভিড় ছিল এবং যেভাবে তেলের বিক্রি বেড়েছে, তা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া মাঝেমধ্যে বাজারে কৃত্রিম সংকটের গুজবে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে 'প্যানিক বায়িং' (Panic Buying) বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রবণতা দেখা যায়, যা সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

সংকট উত্তরণে সরকারি উদ্যোগ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের এনার্জি সিকিউরিটি (Energy Security) নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, এখন যেহেতু সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলেছে এবং লজিস্টিক চ্যানেলগুলো পুনরায় সচল হয়েছে, তাই আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তেলের এই সাময়িক চাপ পুরোপুরি কেটে যাবে।

তিনি দেশের কোথাও তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

উপসংহার

সচিবালয়ে মন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের খবর গণমাধ্যমে আসছিল। সরকারের এই স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও আশ্বাসে জনমনে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, লজিস্টিক চ্যানেলগুলো কতটা দ্রুত তাদের দক্ষতা (Efficiency) বাড়িয়ে গ্রাহক পর্যায়ে তেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে পারে।

Tags: bangladesh news supply chain energy security fuel crisis energy ministry fuel supply oil stock market demand