সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সন্ন্যাসীর চক গ্রামে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। চব্বিশের এই আনন্দঘন ‘Eid Vacation’-এর আবহে এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত দুই শিশু হলো—পশ্চিম তারালী গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে জাকারিয়া হোসেন (১০) এবং পূর্ব নলতা গ্রামের আহসান আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (৮)। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই-বোন এবং উভয়েই স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল।
আনন্দের ছুটিতে বিষাদের ছায়া
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে সন্ন্যাসীর চক গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল জাকারিয়া ও জান্নাতুল। সোমবার দুপুরে বাড়ির অন্য সদস্যদের অগোচরে তারা বাইরে খেলতে বের হয়। দীর্ঘক্ষণ তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ‘Local Community’-র সদস্যদের সহযোগিতায় আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করা হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
মাছের ঘের থেকে নিথর দেহ উদ্ধার
নিখোঁজ হওয়ার বেশ কিছু সময় পর বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরে (Fish Farm) দুই শিশুর নিথর দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে পানি থেকে তোলা হলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। কোনো ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এই দুই শিশু। ঈদের রঙিন দিনগুলো তাদের পরিবারের জন্য সারাজীবনের কান্নায় পরিণত হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও নিরাপত্তা সচেতনতা
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং বিষয়টি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকায় ‘Safety Awareness’ বা নিরাপত্তা সচেতনতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে জলাশয় বা মাছের ঘেরের আধিক্য থাকায় শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছে। দুই শিশুর অকাল মৃত্যুতে কেবল তাদের পরিবারই নয়, বরং পুরো গ্রামজুড়ে এক স্তব্ধতা বিরাজ করছে।