বিশ্ববাজারে টানা দরপতনের মুখে পড়েছে স্বর্ণ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন ডলারের আধিপত্যের কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
১০ সেশনে ২২ শতাংশ দরপতন মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম ১.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪০ ডলার ৬৩ সেন্টে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত ১০টি সেশনে এই ধাতুটি প্রায় ২২ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। এর আগের সেশনে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯৭ ডলার ৯৯ সেন্টে নেমে এসেছিল, যা গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন স্তর। যদিও পরে তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, তবে সামগ্রিক পতনের ধারা এখনও অব্যাহত।
মার্কিন গোল্ড ফিউচারের অবস্থা স্পট গোল্ডের পাশাপাশি মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও কমেছে। এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য গোল্ড ফিউচারের দাম ১.৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৪০ ডলার ৯০ সেন্টে স্থির হয়েছে। মূলত মার্কিন ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।
ফেডারেল রিজার্ভ ও সুদের হার বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদের হার কমাবে—এমন প্রত্যাশা এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ম্লান হয়ে আসছে। সুদের হার উচ্চ থাকলে স্বর্ণের মতো বিনিয়োগে আগ্রহ কমে যায়, কারণ এতে কোনো নির্দিষ্ট লভ্যাংশ বা সুদ পাওয়া যায় না। এই প্রত্যাশার পরিবর্তনই স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে।
বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম কতটুকু কমবে বা বাড়বে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। যদি ডলারের দাম আরও বৃদ্ধি পায়, তবে স্বর্ণের বাজারে এই পতনের ধারা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।