দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্যে বর্তমানে বাজারে কেনাবেচা চলছে। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে বাজুস গত ১৯ মার্চ এক দিনেই দুই দফায় দাম কমিয়েছিল, যার সুফল এখন পাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
নতুন মূল্য তালিকা ও ক্যারেট অনুযায়ী দাম বাজুসের সবশেষ নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এই মানসম্পন্ন স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে বড় অংকের পতন হয়েছে।
অন্যান্য মানের স্বর্ণের মধ্যে:
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশ্ববাজারের প্রভাব ও দরপতনের কারণ আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের ঘর থেকে বড় পতনের মাধ্যমে ৪ হাজার ৩৬৪ ডলারে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনায় মাসের শুরুতে দাম বাড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। এই বৈশ্বিক প্রভাবের কারণেই দেশের বাজারে ১৯ মার্চ একদিনে দুইবার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস।
এক বছরে ৪৫ বার সমন্বয় চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ বার দাম কমানোর ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কমলে স্থানীয় বাজারেও তার প্রতিফলন নিয়মিত দেখা যাবে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগ মুহূর্তে স্বর্ণের এই বড় দরপতন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে।