দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ও পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যাংক বন্ধ থাকায় তেল উত্তোলনে জটিলতা অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল কবির গণমাধ্যমকে জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে ব্যাংকগুলো বন্ধ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পে-অর্ডারের মাধ্যমে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করতে হয়। ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা নতুন করে পে-অর্ডার করতে পারছেন না, যার ফলে ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাম্পে থাকা পূর্বের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে তেল সংকট দেখা দিয়েছে।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল রোববার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বেশ নাজুক। কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের বিপুল চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাম্প কর্মীরাও শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
অতিরিক্ত চাপ ও নিরাপত্তার অভাব সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে আকস্মিক তেলের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক স্থানে কয়েক দিনের মজুত তেল মাত্র কয়েক ঘণ্টাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গভীর রাতে কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তেল লুট করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা পাম্প মালিকদের জন্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ঈদের ছুটি শেষে অফিস-আদালত ও ব্যাংক খুলে গেলে তেল সরবরাহের এই সাময়িক সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে ব্যাংক লেনদেন শুরু হলে পাম্প মালিকরা পুনরায় তেল উত্তোলন করতে পারবেন এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।