• ব্যবসায়
  • জ্বালানি সংকটে রাজধানী: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি, চাহিদার তিনভাগের একভাগ সরবরাহের অভিযোগ

জ্বালানি সংকটে রাজধানী: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি, চাহিদার তিনভাগের একভাগ সরবরাহের অভিযোগ

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
জ্বালানি সংকটে রাজধানী: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি, চাহিদার তিনভাগের একভাগ সরবরাহের অভিযোগ

ঈদের ছুটি শেষে রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হলেও কাটছে না তেলের হাহাকার; ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জোগান না পাওয়ার দাবি পাম্প মালিকদের, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস সরকারের।

রাজধানীসহ সারা দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মব্যস্ততা শুরু হলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের জন্য দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় অনেক পাম্পে মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি, যার ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা। যদিও সরকারি মহলের দাবি, পরিস্থিতির উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

রাজধানীর চিত্র: অপেক্ষার প্রহর ও জ্বালানির হাহাকার সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁও, মগবাজার, কল্যাণপুর ও প্রগতি সরণি এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে এক অভিন্ন দৃশ্য—জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের উপচে পড়া ভিড়। কোনো কোনো স্টেশনে তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গেটে ‘তেল নেই’ বোর্ড ঝুলিয়ে সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে। তবে দু-একটি পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সেখানে গ্রাহকদের ভিড় ছিল সবচাইতে বেশি।

মালিকপক্ষের দাবি: চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল সরবরাহ জ্বালানি তেলের এই তীব্র সংকটের পেছনে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের (Distribution Network) ত্রুটিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল কবির কাবুল জানান, জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান (Demand-Supply Gap) তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ডিপো থেকে বর্তমানে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা চাহিদার তিনভাগের একভাগও নয়। ফলে যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে সেখানে বিক্রি হচ্ছে, আর যেখানে নেই সেখানে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে আমরা স্থায়ীভাবে পাম্প বন্ধ রাখার কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।”

সরকারি ভাষ্য: ‘সংকটের প্রভাব পড়েনি ঈদযাত্রায়’ জ্বালানি তেলের এই সংকট নিয়ে মুখ খুলেছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তাঁর মতে, ঈদের আগে এক ধরণের কৃত্রিম সংকটের শঙ্কা থাকলেও সরকারের সময়োচিত উদ্যোগের কারণে ঈদযাত্রায় এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, “ঈদের ছুটির কারণে গত দুদিন ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল, যা আজ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মার্কেটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন (Supply Chain) পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।”

রেশনিং প্রত্যাহার বনাম বাস্তব চিত্র উল্লেখ্য যে, ঈদুল ফিতরের আগেই সারা দেশে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রির ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা (Fuel Rationing) প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। নিয়ম অনুযায়ী এখন স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। পাম্প মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কিংবা লজিস্টিক সমস্যার কারণে ডিপোগুলো চাহিদামতো জ্বালানি ছাড়ছে না। এতে করে বাজারে এক ধরণের কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার চূড়ান্ত মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি না করলে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার পাশাপাশি জনজীবনে বড় ধরণের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও তদারকি এখন সময়ের দাবি।

Tags: fuel crisis petrol pump filling station