• আন্তর্জাতিক
  • যুদ্ধবিরতি চান ট্রাম্প

যুদ্ধবিরতি চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
যুদ্ধবিরতি চান ট্রাম্প

পাল্টাপাল্টি শর্ত, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের ৫ দফা, মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নির্দিষ্ট কাঠামো তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রস্তাবে রাজি হলে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রস্তাবের বিষয়ে কিছুই জানায়নি ইরান। বরং সংঘাত নিরসনে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, মধ্যপ্রাচ্য ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। সংঘাত নিরসনে আলোচনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্বাগত’ জানাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রস্তুত রয়েছে বলে হুমকি দিয়েছে ইরান। গতকালও ইরানের রাজধানী তেহরান ও বুশেহরে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী। জবাবে ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। এ ছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ইরাকের মার্কিন স্থাপনায় ২৩ দফা হামলার দাবি করেছে ইরান সমর্থিত দেশটির মিলিশিয়া গ্রুপ। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত প্রকাশ হয়েছে। প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ইরানের নাতাঞ্জ, ইসপাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি বন্ধ এবং ধ্বংস করে ফেলা; ইরানের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পূর্ণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (প্রক্সি) সমর্থন, অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা; ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না, এমন লিখিত অঙ্গীকার প্রদান; ইরানের ভূখণ্ডে কোনো পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধ করা যাবে না, বর্তমানে থাকা সব সমৃদ্ধ উপাদান আইএইএকে হস্তান্তর করতে হবে; ‘হরমুজ প্রণালি’ সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং একে একটি ‘মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে। ইরান যদি এসব শর্ত মেনে নেয় তবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াসহ বেশ কিছু সুবিধা পাবে। এগুলো হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বুশেহর শহরে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি ও অন্যান্য সহায়তা দেবে; ইরানের ওপর থাকা সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না, এমন নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এ প্রস্তাবের বিষয়ে কিছু জানায়নি। বরং যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাল্টা পাঁচ শর্ত দিয়েছে তেহরান। শর্তগুলো হলো যুদ্ধ যেন আর কখনো শুরু না হয়, সেটির শক্তিশালী নিশ্চয়তা দিতে হবে; পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে; যুদ্ধের কারণে ইরানের হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন একটি আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে, যার মাধ্যমে এ এলাকা মূলত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ইরানের প্রতি ‘বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যম’-এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ইরানের হাতে তুলে দিতে হবে অথবা তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ইরানের কাছে শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেন্টাগন উত্তর ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে অভিজাত ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যা সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়ে দেবে। জবাবে মার্কিন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে স্বাগত জানাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) প্রস্তুত রয়েছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানি পণ্ডিত ফোয়াদ ইজাদি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানি জেনারেলরা আসলে এটাকে “স্বাগত” জানাবেন। কারণ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার চেয়ে মাটিতে থাকা সেনাদের ওপর আঘাত হানা সহজ। তাই আপনারা অনেক আমেরিকানকে মৃত দেখতে পাবেন।’ তিনি বলেন, ‘দূরে থেকে বেসামরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো খুব একটা কঠিন কাজ নয়, কিন্তু মাটিতে থেকে সরাসরি যুদ্ধ আমেরিকানরা করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।’

শান্তি প্রস্তাবের আলোচনার মাঝেই ইরানের রাজধানী তেহরান ও বুশেহরে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাঙ্গণে গতকালও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। জবাবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গতকাল ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ইসরায়েলে চার দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এর আগে বৃহত্তর তেল আবিব এলাকায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া হাদেরা এলাকায় একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। একই অঞ্চলে তারা অন্তত ছয়টি ড্রোনও ভূপাতিত করেছে। কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি জানিয়েছেন, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরে থাকা একটি জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হলে সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

Tags: যুদ্ধবিরতি ট্রাম্প