রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শুক্রবার এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “গবেষণা বা মন্তব্য এমন হওয়া উচিত নয়, যা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবমূল্যায়ন ঘটায়।”
অতীত ও ভবিষ্যতের মেলবন্ধন প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে মানুষ এক চোখ অন্ধ হয়ে যায়, আর অতীত ভুলে গেলে সে পুরোপুরি অন্ধ। তাই অতীতকে শ্রদ্ধা ও স্মরণে রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ মসৃণ করতে হবে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধকালীন সাহসী জনগণের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
শহীদ জিয়ার অবদান ও ‘একটি জাতির জন্ম’ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করেছিলেন। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় প্রকাশিত জিয়াউর রহমানের নিবন্ধ ‘একটি জাতির জন্ম’-এর কথা উল্লেখ করেন। এই নিবন্ধে ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা গবেষকদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
জনযুদ্ধ ও জাতীয় ঐক্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক দলের নয়, বরং এটি ছিল একটি ‘জনযুদ্ধ’। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বর্তমান সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।