ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ গ্রিসের বৃহত্তম এবং ভূমধ্যসাগরের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানের এবং ১ জন চাদের নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, পাচারকারীদের নির্দেশে যাত্রাপথে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিহত ১৮ জন বাংলাদেশির মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।
তারা হলেন—সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), তারাপাশার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং একই এলাকার মো. সাহান (২৫)। গ্রিক কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, নৌকাটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। টানা ছয় দিন সমুদ্রে ভাসতে থাকা নৌকাটিতে খাবার ও পানীয়ের তীব্র সংকট দেখা দেয়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ক্ষুধার তাড়নায় চরম ক্লান্তিতে ২২ জন যাত্রী মৃত্যুবরণ করে।
এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এ বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন, যা গত বছর ছিল ২৮৭।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়ালেও জীবনঝুঁকি নিয়ে অভিবাসীদের এই বিপজ্জনক যাত্রা থামছে না।