বক্স অফিসে অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও বিতর্কের রোষানল থেকে বের হতে পারছে না বলিউডের নতুন স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর টু: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar 2: The Revenge)। এবার এই সিনেমার তীব্র সমালোচনা করে তোপ দেগেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM)-এর সভাপতি ও লোকসভা সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। সম্প্রতি একটি সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি সিনেমাটিকে ‘৩ ঘণ্টার আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, এটি সমাজে পরিকল্পিতভাবে ‘Hatred’ বা বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।
ওয়াইসির তোপ: ‘সহিংসতা ও গালিগালাজ ছাড়া কিছু নেই’ সিনেমাটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা থাকলেও ওয়াইসির কণ্ঠে শোনা গেল ভিন্ন সুর। সিনেমাটি দেখেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি বলেন, “ওটা কি আদতে কোনো সিনেমা? ওটা তো স্রেফ ৩ ঘণ্টার ডাস্টবিন বা আবর্জনা। আমার কাছে ৩ ঘণ্টা বসে এমন অপ্রাসঙ্গিক বিষয় দেখার মতো সময় নেই। এই ছবিতে গালিগালাজ আর উগ্র ‘Violence’ বা সহিংসতা ছাড়া আর কী আছে?” তিনি দর্শকদের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, কেন মানুষ এমন নেতিবাচক বিষয় দেখে নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি (Franchise) ঘিরে বিতর্কের মেঘ নতুন নয়। গত ১৯ মার্চ মুক্তি পাওয়া এই কিস্তিটি শিখ সম্প্রদায়ের মাঝেও চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সিনেমার একটি পোস্টারে প্রধান অভিনেতা রণবীর সিংকে পাগড়ি ও কড়া পরা অবস্থায় ধূমপান করতে দেখা গেছে। শিখ ধর্মে এটি অত্যন্ত আপত্তিকর হওয়ায় গত ১৭ মার্চ ‘শিখ অব মহারাষ্ট্র’ নামের একটি সংগঠন নির্মাতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ‘Complaint’ বা অভিযোগ দায়ের করেছে। ধর্মীয় প্রতীক ও মূল্যবোধের এমন অবমাননা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিদেশের মাটিতেও বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞা সিনেমাটির প্রথম কিস্তিও সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পায়নি। গত বছরের শেষের দিকে ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম খণ্ডে উগ্র ‘Anti-Pakistan Theme’ বা পাকিস্তান-বিরোধী আধেয় থাকার অভিযোগে মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) বেশ কয়েকটি দেশে সিনেমাটি নিষিদ্ধ বা ‘Banned’ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিটিও একই পথে হাঁটছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশন মহলে জল্পনা চলছে।
প্রযোজকের সাফাই ও পাল্টা অভিযোগ সিনেমাটি নিয়ে চতুর্মুখী আক্রমণের মুখে মুখ খুলেছেন এর প্রযোজক আদিত্য ধর। শিখ সম্প্রদায়ের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি জানান, শিখদের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং ছবিতে বিষয়গুলো অত্যন্ত ‘Sensitive’ বা সংবেদনশীলতার সঙ্গেই উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ভাইরাল হওয়া বিতর্কিত ছবিটিকে তিনি ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ ও এডিট করা কনটেন্ট বলে দাবি করেন। রণবীর সিং এই ছবিতে একজন ভারতীয় গুপ্তচর (Spy) হিসেবে অভিনয় করেছেন, যার আসল নাম জসকিরত সিং রাঙ্গি—যিনি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে পাকিস্তান সীমান্তে প্রবেশ করেন।
ওয়াইসির এই মন্তব্য এবং শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিবাদের মুখে ‘ধুরন্ধর টু’-এর ভবিষ্যৎ বক্স অফিস কালেকশনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে বিনোদন জগতের এই বিতর্ক যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ময়দানে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।