বলিউডে অভিনেতা ও নির্মাতাদের মধ্যে পেশাদার সম্পর্কের বাইরেও অনেক সময় গড়ে ওঠে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। অভিনেতা অনুপম খের এবং পরিচালক মহেশ ভাটের সম্পর্কটিও ঠিক তেমন।
গুরু-শিষ্যের অদ্ভুত প্রথা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে ‘সারাংশ’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে অনুপম খেরের ক্যারিয়ারের সূচনা হয়। সেই সময় থেকেই তিনি তার উপার্জনের একটি অংশ গুরু মহেশ ভাটকে দেওয়ার প্রথা শুরু করেন। প্রথম দিকে তিনি প্রতিটি সিনেমা থেকে ২৫০ রুপি করে খামে ভরে মহেশ ভাটকে দিতেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
মুদ্রাস্ফীতির ছোঁয়ায় ২৫০ থেকে ২৫ হাজার সময়ের সাথে সাথে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অনুপম খেরের পারিশ্রমিক ও জনপ্রিয়তাও। ফলে শুরুর সেই ২৫০ রুপির খামটি এখন ২৫ হাজার রুপিতে এসে ঠেকেছে। এ প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের হাসতে হাসতে বলেন, ‘মহেশ জি প্রায়ই মজা করে বলেন এটা তো ইনফ্লেশনের ফল! ২৫০ থেকে শুরু হয়ে অঙ্কটা এখন ২৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে।’ জানা গেছে, গত সপ্তাহেও তিনি একটি খাম গুরুর হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন। এখন নাকি মহেশ ভাটকে আর খাম খুলে দেখতে হয় না, হাতে নিলেই বুঝে যান ভেতরে কত টাকা আছে।
শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ অনুপম খেরের কাছে এটি কেবল আর্থিক লেনদেন নয়, বরং তার ক্যারিয়ারের কারিগরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। একজন নবাগতকে সুযোগ দিয়ে যেভাবে মহেশ ভাট তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তারই প্রতিদান হিসেবে এই প্রথা টিকিয়ে রেখেছেন তিনি।
বর্তমান ব্যস্ততা অনুপম খেরকে সবশেষ দেখা গেছে ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তানভি দ্য গ্রেট’ সিনেমায়, যা তিনি নিজেই পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন। এছাড়া চলতি বছরের আগস্টে তার অভিনীত ‘খোসলা কা ঘোসলা’ সিনেমার সিক্যুয়েল বা নতুন সংস্করণ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রশান্ত ভাগিয়ার পরিচালনায় এই সিনেমায় তার সাথে আরও থাকছেন হর্ষ ছায়া, পারভিন দাবাসসহ একঝাঁক তারকা।