প্রকাশ্য দিবালোকে অতর্কিত হামলা কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হামলার ঘটনায় শফিকুল ইসলাম আজম (৫২) নামে এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আমলা ইউনিয়নের সদরপুর বাজারে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। শফিকুল ইসলাম ওই এলাকার বিলআমলা গ্রামের মৃত আবুল মণ্ডলের ছেলে এবং আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তার ওপর এই অতর্কিত হামলার সংবাদে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যেভাবে সংঘাতের সূত্রপাত প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শফিকুল ইসলাম সদরপুর বাজারে অবস্থিত তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত তাকে দোকান থেকে বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুলির শব্দে বাজারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের উদ্বেগ ও শারীরিক অবস্থা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (RMO) ডা. হোসেন ইমাম জানান, তার শরীরে তিনটি স্থানে গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ডান চোখ, বাম চোয়াল এবং ওপরের পেটে গুলি করেছে।
চিকিৎসকদের ধারণা, পেটে লাগা গুলিটি শরীরের অভ্যন্তরীণ 'Blood Vessel' বা রক্তনালীকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত (Injured) করেছে। এর ফলে শরীরে প্রচুর পরিমাণে 'Internal Bleeding' বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় 'Refer' করা হয়েছে।
পুলিশি তৎপরতা ও আলামত উদ্ধার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। সহকারী পুলিশ সুপার (মিরপুর সার্কেল) মুহাম্মদ মাহমুদুল হক মজুমদার জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড তাজা গুলি, একটি 'Magazine' এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা হয়েছে বা কারা এর পেছনে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
অনিশ্চয়তায় স্থানীয় জনপদ একজন সাবেক রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীর ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত এই 'Criminal Act'-এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।