একটি গুদারাঘাটের সিডিউল জমাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাথে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জামায়াত ও এনসিপি নেতাসহ ৫জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কার্যালয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর এনসিপির কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে পারলেও জমা দিতে পারেনি জামায়াতের অনুসারীরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নারায়গঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীর রাজাপুর গুদারাঘাটের সিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপির নজরুল গ্রুপ, রশিদ মেম্বার গ্রুপ ও এনসিপি সমর্থিত আলিফ দেওয়ান গ্রুপ সিডিউল জমা দিতে পরস্পরকে বাধা দেন। বাধা দেওয়ার এক পর্যায়ে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। যা এক পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনায় এনসিপি সমর্থক তাওহিদ, তরিকুল ইসলাম ও বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকরসহ কয়েকজন আহত হন পরে তাদের বের করে দেয়া হয় উপজেলা প্রাঙ্গন থেকে। দরপত্র জমা দিতে না পেরে চলে যান জামায়াত অনুসারীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিলো আজ। এই ঘাটের ইজারা নিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির অনুসারীরা আগ্রহী ছিলো। তবে সকাল থেকে পুরো সদর উপজেলা কেন্দ্র ঘিরে রাখে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবু বকর বলেন, এনসিপি নেতা তাওহীদকে বাঁচাতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হই। আমার পরিচিত দুই ছোটভাই মোকলেসিন ও শাহীন দরপত্র জমা দিতে আসে। বিএনপির বাঁধার ও মারামারির কারনে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেননি। এ সময় তিনি বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নাম্বার ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধান তাদের মারধর করেছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে এনসিপি’র সমর্থক আলিফ দেওয়ান অভিযোগ বলেন, নির্ধারিত সময়ে সিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপির লোকজন বাধা দেয়। এ কারণে আমি আমার সিডিউল জমা দিতে পারিনি। তাদের হামলায় তৌহিদ নামের আমাদের একজন কর্মী আহত হয়েছে। আমাদের আরেক কর্মী তরিকুল ইসলাম সিডিউল জমা দিতে গেলেও বিএনপি’র লোকজন বাধা দেয় এবং মারধর করে। এতে আরো চারজন আহত হয়। তারপরও তরিকুল সিডিউল জমা দিতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি যেন ঝুট ঝামেলা না হয়। গতরাত থেকেই আমি জামায়াত এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে বলেছি যে সম্মিলিত ভাবে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। আমি ইউএনও ও ওসির সাথে কথা বলেছি। এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মিলেমিশেই কাজটি করা যেত।
এবিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, সিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উওেজনা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, সদর উপজেলায় রাজাপুর গুদারাঘাটের ইজারার সিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে, তবে কেউ আটক হয়নি।