• জীবনযাপন
  • স্থূলতা কমাতে ও পেশি ধরে রাখতে দৈনিক কত প্রোটিন জরুরি? বিশেষজ্ঞের মত ও সঠিক গ্রহণের কৌশল

স্থূলতা কমাতে ও পেশি ধরে রাখতে দৈনিক কত প্রোটিন জরুরি? বিশেষজ্ঞের মত ও সঠিক গ্রহণের কৌশল

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
স্থূলতা কমাতে ও পেশি ধরে রাখতে দৈনিক কত প্রোটিন জরুরি? বিশেষজ্ঞের মত ও সঠিক গ্রহণের কৌশল

'ক্যালোরি ঘাটতি'-তে থেকেও কীভাবে সুঠাম দেহ বজায় রাখবেন? 'বডি ফ্যাট' কমাতে প্রতি কেজি ওজনের জন্য প্রোটিনের আদর্শ মাত্রা জেনে নিন

ঢাকা: স্বাস্থ্য সচেতনতার এই যুগে অনেকেই চাইছেন শরীরের অতিরিক্ত 'বডি ফ্যাট' (Body Fat) ঝরিয়ে ফেলতে, কিন্তু একই সঙ্গে 'লিন মাসল' বা পেশির ভর (Lean Muscle Mass) অক্ষুণ্ণ রাখতে। এই আপাত কঠিন সমীকরণের সমাধান লুকিয়ে আছে একটি মাত্র 'ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট'-এ: প্রোটিন। ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় যখন শরীর 'ক্যালোরি ডেফিসিট'-এ (Calorie Deficit) থাকে, তখন পেশি ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে পেশি রক্ষা ও মেদ কমানোর জন্য দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের একটি নির্দিষ্ট ও উচ্চ মাত্রা অনুসরণ করা অত্যাবশ্যক, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন।

পেশি রক্ষায় প্রোটিনের ভূমিকা: যখন আপনি 'ক্যালোরি ডেফিসিট'-এ

স্থূলতা কমাতে চাইলে খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা শক্তির চেয়ে বেশি শক্তি ক্ষয় করতে হয়—যা 'ক্যালোরি ডেফিসিট' নামে পরিচিত। এই ঘাটতির সময় শরীর তার জমানো শক্তি ব্যবহার শুরু করে। দুর্ভাগ্যবশত, ফ্যাট-এর পাশাপাশি শরীর প্রোটিনকেও শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যার ফলে পেশি ক্ষয় হতে থাকে।

উচ্চমাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ করলে এই পরিস্থিতি সামলানো যায়। প্রোটিন 'স্যটিয়েশন' (Satiety) বা পেট ভরা থাকার অনুভূতি দীর্ঘায়িত করে, যা সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পর্যাপ্ত প্রোটিন পেশি ভাঙার প্রক্রিয়াকে রোধ করে এবং প্রশিক্ষণের পর পেশি মেরামতে সহায়তা করে। এর ফলে আপনি ফ্যাট হারালেও, আপনার কাঙ্ক্ষিত পেশির ঘনত্ব বজায় থাকে।

আদর্শ প্রোটিন মাত্রা: ২.২ গ্রাম/কেজি ফর্মুলা

সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতি কেজি 'বডি ওয়েট'-এর (Body Weight) জন্য ০.৮ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। যারা কেবল পেশি গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে চান, তাদের জন্য এই মাত্রা ১.২ থেকে ১.৬ গ্রাম/কেজি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

তবে, ফ্যাট লস বা মেদ ঝরানোর সময়, অর্থাৎ যখন আপনি সুনির্দিষ্টভাবে 'ক্যালোরি ডেফিসিট'-এ আছেন, তখন প্রোটিনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পুষ্টি ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে আদর্শ প্রোটিন মাত্রা হওয়া উচিত প্রতি কেজি শরীরের ওজনের জন্য ২.২ গ্রাম।

উদাহরণ: যদি আপনার ওজন ৭০ কেজি হয় এবং আপনি ফ্যাট লসের লক্ষ্য নিয়ে থাকেন, তবে আপনার দৈনিক প্রোটিন গ্রহণ হওয়া উচিত প্রায় ১৫৪ গ্রাম (৭০ কেজি x ২.২ গ্রাম)।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ভারোত্তোলনকারী বা 'এলিট অ্যাথলিট'-দের (Elite Athlete) জন্য এই মাত্রা ৩.৪ গ্রাম/কেজি পর্যন্ত যেতে পারে, তবে সাধারণ মানুষের জন্য ২.২ গ্রাম/কেজি-ই সর্বাধিক কার্যকর এবং নিরাপদ মাত্রা হিসেবে বিবেচিত।

প্রোটিন গ্রহণের কৌশল ও সময়ের গুরুত্ব

শুধুমাত্র দৈনিক প্রোটিনের পরিমাণ জানাই যথেষ্ট নয়, এর সঠিক 'ডিস্ট্রিবিউশন' বা বন্টনও সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পেশি 'সিন্থেসিস' (Synthesis) বা গঠনের প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে, প্রোটিনকে সারাদিনের প্রধান খাবারগুলোর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া উচিত।

১. বিভাজন: প্রতিটি প্রধান খাবারে (ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার) অন্তত ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম প্রোটিন রাখার চেষ্টা করুন। ২. সময়: প্রশিক্ষণের (Training) আগে বা পরে প্রোটিন গ্রহণ পেশি মেরামতের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ৩. প্রতিরোধ প্রশিক্ষণ: উচ্চ প্রোটিন গ্রহণের পাশাপাশি 'রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং' (Resistance Training) বা ভারোত্তোলন করা অপরিহার্য। প্রোটিন পেশি রক্ষায় সাহায্য করে, কিন্তু সঠিক উদ্দীপনা (Stimulation) ছাড়া পেশি শক্তিশালী বা অক্ষুণ্ণ থাকবে না।

সুতরাং, ফ্যাট লসের কঠিন যাত্রায় প্রোটিন কেবল একটি পুষ্টি উপাদান নয়, বরং 'লিন মাসল' রক্ষার জন্য একটি অনিবার্য 'টুল' (Tool)। সঠিক পরিমাণ, কৌশল এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি তার কাঙ্ক্ষিত সুঠাম ও স্বাস্থ্যকর দেহ অর্জন করতে পারেন।