ঢাকা/গাজীপুর: দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করে 'গ্রেড-১১' (Grade-11) স্কেলে বেতন নির্ধারণের দাবিতে রাজধানী অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কঠোর পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (তারিখটি ধরে নেওয়া হচ্ছে সাম্প্রতিক) সকালে হাজার হাজার শিক্ষক ঢাকার প্রবেশমুখে, বিশেষ করে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রশাসনের তরফ থেকে তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। প্রাথমিক শিক্ষকদের এই 'প্রটেস্ট মার্চ' (Protest March) আটকে দেওয়ায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
দাবি আদায়ে শিক্ষকদের গণ-আন্দোলন
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের মূল 'ডিম্যান্ড' (Demand) বা দাবি হলো, প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য দূর করে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেডে বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা। বর্তমানে তারা বেতন কাঠামোর ১৩তম গ্রেডে বেতন পান, যা তাদের মতে, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কাজের 'স্ট্যান্ডার্ড' (Standard) অনুযায়ী যথেষ্ট নয়।
বিভিন্ন জেলায় আয়োজিত একাধিক সভা ও সমাবেশ শেষে, শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে তাদের দাবি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দিতে ঢাকায় এসে গণজমায়েত করার উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষ্যেই তারা পদযাত্রা শুরু করেন।
মহাসড়কে ব্যারিকেড ও পুলিশি বাধা
খবর পাওয়া মাত্রই ঢাকার দিকে শিক্ষকদের আগমন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহাসড়কগুলোতে কড়া নজরদারি শুরু করে। গাজীপুরের চন্দ্রা, নাওজোড় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পুলিশের একাধিক দল শিক্ষকদের পথ আটকে দেয়। শিক্ষকদের রাজধানীমুখী পদযাত্রা থামাতে পুলিশ সড়কে ব্যারিকেড (Barricade) তৈরি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদস্যরা শিক্ষকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের গণজমায়েত করা আইনানুগ নয়। একপর্যায়ে, শিক্ষকরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের মৃদু ধস্তাধস্তি হয়। অনেক শিক্ষককে বিভিন্ন বাস ও পরিবহন থেকে নামিয়ে দিয়ে তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরত পাঠানো হয়। শিক্ষক নেতারা দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এমন বাধা দেওয়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন।
শিক্ষক নেতাদের বার্তা: আন্দোলন চলবে
পুলিশি বাধার মুখে শিক্ষকরা সাময়িকভাবে পিছু হটলেও, তাদের দাবি আদায়ের 'সংগ্রাম' (Struggle) থামছে না। শিক্ষক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, পুলিশি বাধা ও প্রশাসন তাদের কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটালেও তারা তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসবেন না। ন্যায্য গ্রেড-১১ বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তারা সরকারের প্রতি দ্রুত তাদের দাবি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় 'অ্যাকশন' (Action) নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষকদের এই অসন্তোষ দ্রুত নিরসন করা না গেলে তা শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের 'ইমপ্যাক্ট' (Impact) ফেলতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা।