দীর্ঘ পাঁচ দিনের অনশন অবশেষে ভঙ্গ করলেন আমজনতা দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান। ইলেকশন কমিশনের (Election Commission - EC) রাজনৈতিক দল হিসেবে রেজিস্ট্রেশন (Registration) না পাওয়ার প্রতিবাদে তিনি এই হিউম্যান চেইন স্ট্রাইক (Human Chain Strike) বা অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদের আশ্বাসে গত রবিবার (৯ নভেম্বর, ২০২৫) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি নির্বাচন ভবনের মূল ফটকে এসে অনশন প্রত্যাহার করেন।
পাঁচ দিনের অনশন ভঙ্গের মুহূর্ত
গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন দুইটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর, নিবন্ধন দৌড়ে ছিটকে পড়ে আমজনতা দল। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেদিন বিকেল ৪টা থেকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মূল ফটকের সামনে অনশনে বসে যান দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান। পাঁচ দিন ধরে চলা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে নজর কাড়ে।
অনশন ভঙ্গের সময় তারেক রহমানকে দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সালাউদ্দিন আহমদ তাকে জল পান করিয়ে অনশন ভাঙান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আশ্বস্ত করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় অনশন ভঙ্গের পরপরই সমর্থকরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
সালাউদ্দিনের আশ্বাস ও ইসি সচিবের পরামর্শ
আমজনতা দলের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, "দল অবশ্যই আগামীকাল আপিল আবেদন করবে। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কিছু দপ্তরের সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হবে। এই পরিস্থিতিতে তোমার অনশন প্রত্যাহার করা উচিত।"
এর আগে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ অনশনস্থলে এসে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনশন ভাঙার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, "নিবন্ধন না পাওয়ার সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিব বরাবর আপিল করতে হবে। এরপর কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করবে।" ইসি সচিবের এই পরামর্শ আইনি প্রক্রিয়ার পথ খুলে দেওয়ায় অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যে কারণে নিবন্ধন থেকে ছিটকে পড়লো ‘আমজনতা দল’
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেছিল আমজনতা দল। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য পার্টি (Party)-কে কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—নির্ধারিত সংখ্যক জেলা ও উপজেলায় কার্যকর কার্যালয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য থাকা।
আমজনতা দলের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন তাদের দেওয়া তথ্যে ত্রুটি খুঁজে পায়। মূলত, মাঠপর্যায়ের কার্যালয় এবং অর্গানাইজেশনাল স্ট্রাকচার (Organizational Structure) সম্পর্কিত শর্তাবলী পুরোপুরি পূরণ করতে না পারার কারণেই দলটিকে নিবন্ধন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। দলটির নেতারা অবশ্য কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিগ্যাল স্টেপ (Legal Step) নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আপিল আবেদনের মাধ্যমে তারা আবারও নিবন্ধন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন, যা আগামী সংসদীয় নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।