ডিএসই'র সূচকে রেকর্ড নিম্নগামী প্রবণতা
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গতকাল অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। লেনদেন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই একের পর এক কোম্পানির শেয়ার দর কমতে থাকে। দিন শেষে, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট ৩৮৮টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৩৪টির দর বেড়েছে, কমেছে রেকর্ড সংখ্যক ৩২৯টির। ২৭টি কোম্পানির দর ছিল অপরিবর্তিত। এই ব্যাপক দরপতনের ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৮ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি গত ৩ জুলাইয়ের পর ডিএসই'র প্রধান সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান।
অপর দুই সূচকের মধ্যে, ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২২ পয়েন্টে এবং বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের পরিমাণ হ্রাস
সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। গতকাল বাজারটিতে মোট ৪০২ কোটি ২০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের (৪১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা) তুলনায় ১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা কম।
লেনদেনের শীর্ষে যে সব কোম্পানি
গতকাল দেশের প্রধান শেয়ার বাজারে টাকার অঙ্কে লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ার। কোম্পানিটির প্রায় ২৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মনোস্পুল পেপার। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরও ছিল—বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ওরিয়ন ইনফিউশন, সায়হাম কটন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, রানার অটোমোবাইল, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল এবং শাহজিবাজার পাওয়ার।
সিএসই'র চিত্র
অপর শেয়ার বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল মোট ১৫৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪২টির, কমেছে ১০৯টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এর ফলে এই বাজারের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমেছে। তবে, সিএসইতে গতকাল লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ১৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, সেখানে গতকাল ২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার লেনদেন রেকর্ড করা হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং স্থানীয় নীতিগত কিছু অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস পেয়েছে, যা এই দরপতনের অন্যতম প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কার্যকর নীতি সহায়তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।