ঐতিহাসিক ভিড় ভিড়: চার দিনেই ১৫০ ফরম বিক্রি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর রাজনীতিতে এক নতুন Momentum সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় বর্তমানে মনোনয়নপ্রত্যাশী, নেতা-কর্মী ও তাদের সমর্থকদের পদচারণায় মুখর। গত ৬ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল ও শোভাযাত্রা নিয়ে আসছেন। প্রার্থীরা এক উৎসবমুখর পরিবেশে ফরম সংগ্রহ করছেন, যা দেশের Political Spectrum-এ নতুন দলটির সক্রিয় উপস্থিতিকে নির্দেশ করে।
দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ফরম বিতরণের প্রথম চার দিনেই প্রায় দেড় শতাধিক মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এই সংখ্যা নতুন দল হিসেবে এনসিপির প্রতি তৃণমূলের আগ্রহের একটি সুস্পষ্ট Trend তুলে ধরছে।
নতুনদের উল্লাস, অনুপস্থিত 'হেভিওয়েট' প্রার্থীরা
এনসিপি কার্যালয়ে যে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে নতুন মুখ এবং তৃণমূল (Grassroots) কর্মীদের উৎসাহ। অনেকেই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বসিত, আবার কেউবা রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই নতুন রক্তস্রোত দলটির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করলেও, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এখনো পর্যন্ত কোনো হেভিওয়েট (Heavyweight) বা অন্য দলের বড় মাপের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফরম নেননি।
সাধারণত, নতুন দলগুলো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ঘরানার পরিচিত মুখদের টানার চেষ্টা করে। কিন্তু এনসিপির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। এটি কি নতুন প্রজন্মের প্রতি দলের Strategic Focus, নাকি রাজনৈতিক মহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতার অভাব—এই নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনা চলছে।
পদচারণায় মুখর এনসিপি কার্যালয়: প্রার্থীর অঙ্গীকার
প্রার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে জনগণের জন্য কাজ করার এবং Democratic Change-এর প্রতি তাদের অঙ্গীকার। যেমন, ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আসাদুল ইসলাম মুকুল, যিনি তার চার বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ফরম সংগ্রহ করেছেন, উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "জীবনে প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছি, এটি এক অন্যরকম অনুভূতি।"
অন্যদিকে, কুড়িগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী মো. হাফিজুর রহমান খান জুয়েল তার বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, "ঐ আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলাম। জনগণের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার নিয়েই নির্বাচনে নামছি। আশা করি, নতুনদের পক্ষে জনগণ রায় দেবে।" তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক Scanning Process শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কারা ফরম জমা দিয়েছেন, তা বলা সম্ভব নয়।
শীর্ষ নেতাদের 'সাংগঠনিক ব্যস্ততা', ফরম গ্রহণ বাকি
মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে এই বিপুল Momentum থাকা সত্ত্বেও দলের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা এখনও ফরম সংগ্রহ করেননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাইফুল্লাহ হায়দার জানান, "প্রতিদিনই দেশজুড়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড় বাড়ছে। বিভিন্ন পেশার জনপ্রিয় প্রার্থীরা ফরম নিচ্ছেন। আমরা আশা করছি, এই নির্বাচনে এনসিপি একটি শক্ত অবস্থান (Strong Foothold) তৈরি করবে।" নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরাও জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতারা সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ফরম নিতে পারেননি, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ফরম সংগ্রহ করবেন।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হচ্ছে। প্রার্থীরা আগামী ১৩ নভেম্বরের মধ্যে তাদের ফরম জমা দিতে পারবেন। এরপর শুরু হবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।