• আন্তর্জাতিক
  • ট্রাম্পের শুল্কনীতির ধাক্কা: রফতানি লোকসান এড়াতে ‘বন্ধু’ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পথে ভারত

ট্রাম্পের শুল্কনীতির ধাক্কা: রফতানি লোকসান এড়াতে ‘বন্ধু’ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পথে ভারত

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ট্রাম্পের শুল্কনীতির ধাক্কা: রফতানি লোকসান এড়াতে ‘বন্ধু’ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির পথে ভারত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ পলিসির কারণে কমেছে পণ্য রফতানির পরিমাণ। এই অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত করছে ভারত।

ট্রাম্পের শুল্কনীতির জেরে অর্থনৈতিক ক্ষতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতির (Tariff Policy) কারণে ভারতের পণ্য রফতানি মারাত্মকভাবে মার খেয়েছে। বিশেষত উচ্চ শুল্কের বোঝা দেশীয় উৎপাদকদের (Producers) ক্ষতির মুখে ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করছে। এই অর্থনৈতিক ক্ষত মেরামত করতে এবার ভারত তার 'বন্ধু' দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি (Trade Agreement) করার পথে হাঁটতে চলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই লক্ষ্যে ভারতের প্রধান ফোকাস এখন অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফারেলের মধ্যে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে দুই দেশই দ্রুত একটি অর্থনৈতিক বোঝাপড়া সংক্রান্ত চুক্তি (Economic Understanding Agreement) চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারত-অস্ট্রেলিয়া: কোয়াড জোটের মিত্রতা ও বাণিজ্য কৌশল

ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাষ্ট্র। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Indo-Pacific Region) চীনের ক্রমবর্ধমান একাধিপত্যকে রুখতে গঠিত চতুর্দেশীয় অক্ষ 'কোয়াড' (QUAD)-এর অন্যতম সদস্য এই দুটি দেশ, যেখানে আমেরিকা এবং জাপানও রয়েছে।

কিন্তু মিত্ররাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে অস্ট্রেলিয়াও রুষ্ট। হোয়াইট হাউস অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের উপরও ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। অন্যদিকে, ভারতের পণ্যের ওপর ট্রাম্প মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলস্বরূপ, আমেরিকায় পণ্য রফতানি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, যা উভয় দেশের জন্যই নতুন বাজার খোঁজা অপরিহার্য করে তুলেছে।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজনীয়তা ও অগ্রগতি

ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার সরকার প্রাথমিকভাবে আশা করেছিল ২০২৩ সালের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে প্রায় মুক্ত একটি বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করা যাবে। নানা কারণে সেই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও সম্প্রতি দুই দেশই এই বিষয়ে জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে।

বর্তমানে ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২৪০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার কোটি টাকা)। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি কার্যকর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি উভয় দেশকেই লাভবান করবে, রফতানি বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (Economic Growth) নিশ্চিত করবে।

অন্যদিকে, শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয়, ভারত নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গেও বাণিজ্যচুক্তির পথে হাঁটতে চলেছে। গত সপ্তাহে গয়াল অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি নিউ জিল্যান্ডও সফর করেছেন, যা নতুন ট্রেড পার্টনারশিপ তৈরির ক্ষেত্রে ভারতের স্ট্র্যাটেজিক উদ্যোগকে প্রতিফলিত করে। ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি-র বিপরীতে ভারত এখন বিশ্বজুড়ে তার ট্রেড নেটওয়ার্ককে বহুমুখী (Diversify) করতে বদ্ধপরিকর।