• প্রযুক্তি
  • ইতিহাস বদলে দিল ভারতীয় ফোন কল: গণভবন ত্যাগের ২০ মিনিট আগে যেভাবে রক্ষা পেলেন শেখ হাসিনা

ইতিহাস বদলে দিল ভারতীয় ফোন কল: গণভবন ত্যাগের ২০ মিনিট আগে যেভাবে রক্ষা পেলেন শেখ হাসিনা

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
ইতিহাস বদলে দিল ভারতীয় ফোন কল: গণভবন ত্যাগের ২০ মিনিট আগে যেভাবে রক্ষা পেলেন শেখ হাসিনা

চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন: 'ইনসাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভেলিউশন' বইয়ে প্রকাশ— গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্তে ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ফোনের পরই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

নাটকীয় অভ্যুত্থান: যখন বদলে গেল ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম নাটকীয় এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নতুন প্রকাশিতব্য বই ‘ইনসাল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভেলিউশন’। ভারতীয় সাংবাদিক দীপ হালদার, ভারতীয় কূটনীতিক জয়দীপ মজুমদার এবং বাংলাদেশের সাংবাদিক শাহিদুল হাসান খোকন— এই তিন লেখকের যৌথ প্রয়াসে লেখা বইটি নভেম্বর ২০২৫-এর মাঝামাঝি প্রকাশিত হওয়ার আগেই গণমাধ্যমে এর মূল বিষয়বস্তু উঠে এসেছে।

বইটিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার গণভবন থেকে জনতা আক্রমণের মাত্র ২০ মিনিট আগে দেশ ছেড়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সিদ্ধান্ত তিনি নিতেন না, যদি না তিনি ভারত থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফোন কল পেতেন। লেখকদের মতে, এই ফোন কলটিই কেবল শেখ হাসিনার জীবন বাঁচায়নি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকেও অপ্রত্যাশিত মোড় দেয়। তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের মতো করুণ পরিণতি থেকে তিনি রক্ষা পান বলে বইটিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়া হয়েছে।

গণভবনে চূড়ান্ত মুহূর্তের অনড়তা

বইটির বিবরণ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন গণভবনে অবস্থান করছিলেন, তখন ক্ষুব্ধ জনতা মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে এসে পৌঁছেছিল। সকাল থেকেই ঢাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানরা শেখ হাসিনাকে বারবার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন, কিন্তু তিনি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি বোন শেখ রেহানা এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোন করলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন।

জীবন রক্ষাকারী সেই ‘এসওএস’ কল

বেলা ১টা ৩০ মিনিটে আসে সেই টার্নিং পয়েন্ট। ভারতের এক পরিচিত শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে সেই গুরুত্বপূর্ণ ফোন কলটি আসে। সেই সংক্ষিপ্ত কথপোকথনে বার্তাটি ছিল স্পষ্ট ও জরুরি:

“You must live to fight another day”

(আপনাকে লড়াইয়ের জন্য আরও একদিন বাঁচতে হবে।)

এই সংক্ষিপ্ত এবং কঠোর ইন্টারভেনশন-এর পরই শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। দ্রুত বোন শেখ রেহানা তাকে একটি SUV-তে তুলে নেন, সঙ্গে ছিল মাত্র দুটি স্যুটকেস। দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে তারা হিলিপ্যাডে পৌঁছান। গণভবন থেকে হেলিকপ্টার উড়ে গিয়ে ১২ মিনিটে তেঁজগাও এয়ারবেসে পৌঁছায়। এরপর ২টা ৪২ মিনিট নাগাদ একটি C-170J বিমান তাকে নিয়ে বাংলাদেশের আকাশসীমা পেরিয়ে মালদার উপর দিয়ে ভারতের দিকে রওনা হয়।

সন্ধ্যায় বিমানটি দিল্লির হিন্দন এয়ারবেসে অবতরণ করে। সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল তাকে স্বাগত জানান, যা কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল।

বইটির মূল আখ্যান: বিশ্বাসঘাতকতা ও ইসলামপন্থী উত্থান

বইটির মূল আখ্যানকে কয়েকটি শক্তিশালী অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক সংকটের গতিপথ, কারণ এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করে। প্রধান আলোচিত অংশগুলো হলো:

প্যানিক অ্যাট গণভবন (Panic at Ganabhaban): অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্তে গণভবনে সৃষ্ট আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার বিশদ বর্ণনা।

এ কল ফ্রম ডেলহি সেভড হাসিনা’স লাইফ (A Call from Delhi Saved Hasina's Life): ভারতীয় কর্মকর্তার সময়োপযোগী ফোন কলটির বিবরণ।

দ্য জেনারেল’স বিট্রেয়াল (The General's Betrayal): সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-এর বিরুদ্ধে ওঠা 'বিশ্বাসঘাতকতার' অভিযোগ এবং তার অ্যানালিসিস।

ইসলামিক টেকওভার অফ ঢাকা (Islamic Takeover of Dhaka): শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ইসলামপন্থী দলগুলির, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামীর, প্রভাব বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তাদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের বিবরণ।

এই বইটি দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক অস্থির অধ্যায়ের অজানা ফ্যাক্ট উন্মোচন করতে চলেছে, যেখানে সীমান্ত পেরিয়ে আসা একটি ফোন কল একটি দেশের ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে।