এক অপূরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি
বলিউড তারকা অভিষেক বচ্চনের জীবনে নেমে এল শোকের ছায়া। দীর্ঘ ২৭ বছরের সঙ্গী, তাঁর ব্যক্তিগত মেকআপ আর্টিস্ট অশোক সাওয়ান্ত রবিবার, ৯ নভেম্বর পরলোকগমন করেছেন। এই আকস্মিক বিদায়ে ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা। অভিনয় জীবনের প্রথম শট থেকে শুরু করে সাম্প্রতিকতম কাজ পর্যন্ত যাঁর নিপুণ হাতের ছোঁয়া অভিষেকের চেহারায় এনে দিয়েছে নানা চরিত্রের গভীরতা, সেই বিশ্বস্ত সঙ্গীর অনুপস্থিতি এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের সদস্য, শুধু কর্মী নন
অশোক সাওয়ান্তের সঙ্গে অভিষেকের সম্পর্ক কেবল পেশাদারিত্বের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে অভিষেক স্মরণ করেন, অশোক তাঁর কাছে পরিবারের সদস্যের মতোই ছিলেন। তিনি লেখেন, “২৭ বছর ধরে অশোক দাদা আর আমি একসঙ্গে কাজ করেছি। আমার প্রথম সিনেমার প্রথম দিন থেকে উনি আমার মেকআপ করেছেন। তিনি শুধু আমার টিমের একজন সদস্য ছিলেন না, ছিলেন আমার পরিবারের অংশ।” এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বহু চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী ছিলেন অশোক, যা তাঁদের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছিল।
বচ্চন পরিবারের সঙ্গে দশকের সম্পর্ক
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বচ্চন পরিবারের সঙ্গে সাওয়ান্ত পরিবারের এই যোগসূত্র প্রায় অর্ধশতাব্দীর। অভিষেকের পোস্ট থেকে জানা যায়, অশোক সাওয়ান্তের ভাই দীপক সাওয়ান্ত গত ৫০ বছর ধরে শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের মেকআপ শিল্পী হিসেবে কাজ করে আসছেন। দুই প্রজন্মের দুই তারকার রূপসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন দুই ভাই, যা বলিউডে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই পারিবারিক যোগসূত্রই অশোক সাওয়ান্তকে বচ্চন পরিবারের আরও কাছের মানুষ করে তুলেছিল।
শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য ও স্মৃতিচারণ
অভিষেক আরও জানান যে, অশোক সাওয়ান্ত গত কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং সেই কারণে নিয়মিত শুটিং সেটে আসতে পারতেন না। কিন্তু অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি প্রতি মুহূর্তে অভিষেকের কাজের খোঁজখবর রাখতেন। তাঁর এই নিষ্ঠা ও ভালোবাসা জুনিয়র বচ্চনকে গভীরভাবে স্পর্শ করত।
পোস্টের শেষে অভিষেক লেখেন, “তোমাকে ছাড়া শুটিং সেটে যাওয়ার কথা ভেবেই মন ভেঙে যাচ্ছে। তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি। আমাদের আবার দেখা হবে।” তাঁর এই বার্তা প্রমাণ করে, অশোক সাওয়ান্তের বিদায় বলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য এবং বিশেষ করে বচ্চন পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।