ফুটবল বিশ্বজুড়ে চলা দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কোচিংয়ে ফেরার ঘোষণা দিলেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ থেকে দ্বিতীয় দফায় সরে দাঁড়ানোর পর প্রায় তিন বছর ধরে পাদপ্রদীপের আলো থেকে দূরে ছিলেন তিনি। অবশেষে এক দাতব্য ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন এই ফরাসি মহাতারকা। খুব শিগগিরই তাঁকে আবারও ডাগআউটে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফুটবল থেকে দীর্ঘ স্বেচ্ছানির্বাসন
২০২১ সালের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে জিদান কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হননি। এই দীর্ঘ সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, বায়ার্ন মিউনিখ, প্যারিস সেইন্ট-জার্মেই (পিএসজি) এবং তার সাবেক ক্লাব জুভেন্টাসের মতো ইউরোপীয় জায়ান্টরা তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু কোনো প্রস্তাবেই সাড়া দেননি তিনি। একটা সময় এমনও গুঞ্জন উঠেছিল যে, জিদান হয়তো আর কোচিংয়ে ফিরবেন না। তবে সব জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি নিজেই ফেরার বার্তা দিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জিদান বলেন, "অবশ্যই আমি কোচিংয়ে ফিরব। আমি আবারও ডাগআউটে দাঁড়াতে চাই। এটা খুব শিগগিরই ঘটবে।" যদিও কোন ক্লাবের দায়িত্ব নিতে চলেছেন, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
সম্ভাব্য গন্তব্য কোথায়?
জিদানের এই ঘোষণার পর থেকেই ফুটবল মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। তাঁর সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বেশ কয়েকটি নাম উঠে আসছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ফ্রান্স জাতীয় দলের পরবর্তী কোচ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর জিদানই যে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের প্রথম পছন্দ, তা একপ্রকার নিশ্চিত। জিদান নিজেও একাধিকবার ফ্রান্সের কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখার কথা জানিয়েছেন।
ক্লাব ফুটবলের ক্ষেত্রে, রিয়াল মাদ্রিদের দরজা তাঁর জন্য সবসময়ই খোলা। ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ তিনি। দুটি লা লিগা এবং অভাবনীয় হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের কীর্তি রয়েছে তাঁর। কার্লো আনচেলত্তির পর রিয়ালের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে তাঁর নাম আবারও আলোচনায় আসতে পারে।
এছাড়া ইতালির সিরি আ'র ক্লাব জুভেন্টাসের প্রতিও রয়েছে জিদানের বিশেষ দুর্বলতা। খেলোয়াড়ী জীবনে তুরিনের এই ক্লাবের হয়েই তিনি বিশ্বসেরা হয়েছিলেন। তিনি নিজেও বলেছেন, "জুভেন্টাস সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে।" তবে ক্লাব ফুটবলে ফিরলে তিনি কোন প্রজেক্ট হাতে নেবেন, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনার ওপর।
প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায় ফুটবল বিশ্ব
একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেমন शिखरস্পর্শী সাফল্য পেয়েছিলেন, কোচ হিসেবেও জিদানের যাত্রাটা ছিল তেমনই ঈর্ষণীয়। তাঁর কৌশল, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বড় মঞ্চে স্নায়ুচাপ সামলানোর ক্ষমতা তাঁকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ম্যানেজারে পরিণত করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের মতো তারকাখচিত দলের দায়িত্ব অনায়াসে সামলে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। তাই তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বের ফুটবলে ফেরা নিঃসন্দেহে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের জন্য এক দারুণ খবর। এখন কেবল অপেক্ষা, জিনেদিন জিদান কোন দলের হয়ে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরু করেন।