• দেশজুড়ে
  • দেশজুড়ে সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরাপত্তা কড়াকড়িতে বেবিচকের জরুরি নির্দেশনা

দেশজুড়ে সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরাপত্তা কড়াকড়িতে বেবিচকের জরুরি নির্দেশনা

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দেশজুড়ে সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরাপত্তা কড়াকড়িতে বেবিচকের জরুরি নির্দেশনা

যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিসিটিভি নজরদারি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা টহল জোরদার এবং সর্বোচ্চ জনবল নিশ্চিত করার মতো একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে দেশের সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এক জরুরি চিঠির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এই নির্দেশের পর দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সার্বিক নজরদারি বহুলাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বেবিচকের পাঠানো চিঠিতে বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকাসহ সীমানাপ্রাচীর পর্যন্ত নিরাপত্তা টহল জোরদার করা, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের মতো একাধিক কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত, যে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা প্রতিরোধ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি।

প্রবেশ ও তল্লাশিতে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি

নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে বিমানবন্দরের ভেতরে শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বৈধ টিকিটধারী যাত্রী ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থান গেটগুলোতে নিরাপত্তা তল্লাশি আরও নিবিড় করার জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে, র‍্যানডম চেকিং বৃদ্ধি করার পাশাপাশি যাত্রী, তাদের কেবিন ব্যাগেজ এবং কার্গোতে আসা পণ্য ও যানবাহন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখার জন্য নিয়মিত ব্রিফিং প্রদানের কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে।

জোরদার হচ্ছে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল

বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দিয়েছে বেবিচক। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বিমানবন্দরের সিসিটিভি মনিটরিং সেলকে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে হবে। যেকোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করার সাথে সাথেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর পাশাপাশি, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর এলাকা ও সীমানাপ্রাচীর বরাবর নিয়মিত এবং ঘন ঘন ভেহিক্যাল পেট্রোল (Vehicular Patrol) ও ফুট পেট্রোল (Foot Patrol) পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়।

জনবল ও সরঞ্জামাদির কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ

নির্দেশনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখার কথা বলা হয়েছে। একইসাথে, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জামাদির কার্যকারিতা প্রতিদিন পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক্স-রে স্ক্যানার (X-ray Scanner), মেটাল ডিটেক্টর (Metal Detector) এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি। কোনো সরঞ্জাম ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে সারিয়ে তোলার ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অগ্নিসুরক্ষা ও জরুরি প্রস্তুতি

নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি অগ্নি দুর্ঘটনার মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক লাইন ও সংশ্লিষ্ট সকল স্থাপনা নিয়মিত পরিদর্শন করে অগ্নিসুরক্ষা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে ২৪ ঘণ্টা সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, পরিত্যক্ত বস্তু বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য সকল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।