দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও লাগামছাড়া। একদিনের ব্যবধানেই প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ১৮৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন করে মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এই বিশাল উল্লম্ফনের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি খাঁটি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি অন্যতম সর্বোচ্চ দর।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বুধবার (১২ নভেম্বর) থেকেই সারা দেশে স্বর্ণের এই নতুন দর কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি?
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ বা তেজাবি স্বর্ণের (Pure Gold) দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং স্থানীয় বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত, কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণেই খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বর্ণের বাজারের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ক্রেতাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে, সামনে বিয়ের মৌসুম থাকায় সাধারণ ক্রেতা এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
মাত্র একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে এমন বড় ধরনের পরিবর্তন বাজারে এক প্রকার অস্থিরতা তৈরি করেছে। যারা স্বর্ণালঙ্কার কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের এখন বাড়তি অর্থ গুনতে হবে। গহনা তৈরির ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তাই এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি ক্রেতাদের বাজেটে আঘাত হানবে।
অন্যদিকে, যারা স্বর্ণকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Investment) হিসেবে বিবেচনা করেন, তাদের জন্যও এই পরিস্থিতি নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। বাজারের এই অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তাও বটে। தொடர்ந்து দাম বাড়তে থাকায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য স্বর্ণালঙ্কার কেনা ক্রমেই স্বপ্নের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজুসের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই জুয়েলারি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা এবং নতুন দাম সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে দেখা গেছে।