• খেলা
  • বিশ্বকাপ ফাইনালের মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর ফের দেখা! ২০২৬-এর আগেই মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

বিশ্বকাপ ফাইনালের মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর ফের দেখা! ২০২৬-এর আগেই মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

খেলা ১ মিনিট পড়া
বিশ্বকাপ ফাইনালের মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর ফের দেখা! ২০২৬-এর আগেই মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স

কাতার ফাইনালের সেই রুদ্ধশ্বাস স্মৃতি ফিরছে? ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মঞ্চে মেসি-এমবাপ্পে দ্বৈরথ আয়োজনে আগ্রহী ফ্রান্স, তবে ঝুলে আছে শর্তের গেরো।

প্রায় তিন বছর আগের সেই ডিসেম্বরের রাত ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে এখনও অমলিন। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের সেই মহাকাব্যিক দ্বৈরথ—লিওনেল মেসি ও আনহেল দি মারিয়ার অনবদ্য পারফর্ম্যান্সের জবাবে কিলিয়ান এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক এবং শেষে টাইব্রেকারে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের নায়ক হয়ে ওঠা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল হিসেবে স্বীকৃত সেই ম্যাচের পর আর একে অপরের মুখোমুখি হয়নি এই দুই বিশ্বসেরা দল।

তবে ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসতে চলা পরবর্তী বিশ্বকাপের আগেই সেই প্রতীক্ষিত লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একটি হাই-প্রোফাইল প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে আগ্রহী।

আলোচনার কেন্দ্রে ফ্রান্সের উদ্যোগ আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম 'ডোবেল আমারিয়া'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (FFF) ২০২৬ সালের মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার জন্য ফ্রান্স বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে খেলতে চায় এবং সেই তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মেসি বনাম এমবাপ্পের সম্ভাব্য এই পুনর্মিলন ফুটবল বিশ্বের জন্য নিঃসন্দেহে এক বিরাট আকর্ষণ। তবে এই স্বপ্নের ম্যাচটি আয়োজন করার পেছনে রয়েছে একটি বড় শর্ত।

মূল শর্ত: ফ্রান্সের বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন এই ম্যাচটি আয়োজনের প্রধান এবং একমাত্র শর্ত হলো—ফ্রান্সকে চলতি নভেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতেই সরাসরি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। যদি তারা এই পর্বেই টিকিট নিশ্চিত করতে পারে, তবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের সূচি তাদের জন্য ফাঁকা হয়ে যাবে, যা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজনের পথ প্রশস্ত করবে।

বর্তমানে ফ্রান্স ইউরোপীয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গ্রুপ 'ডি'-তে চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। 'লে ব্লু'রা বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ইউক্রেনের (৭ পয়েন্ট) মুখোমুখি হবে এবং এরপর রোববার (১৬ নভেম্বর) তাদের প্রতিপক্ষ আজারবাইজান। ইউক্রেনের বিপক্ষে জয় পেলে অথবা এই দুই ম্যাচ থেকে অন্তত চার পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলেই দিদিয়ে দেশমের দলের ২০২৬ বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে।

ফাইনালিসিমা নিয়েও কাটেনি অনিশ্চয়তা এদিকে, আর্জেন্টিনা এবং স্পেনের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত 'ফাইনালিসিমা' ম্যাচ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। জানা গেছে, স্পেন ও আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন নীতিগতভাবে মার্চ মাসেই ম্যাচটি খেলতে সম্মত হয়েছে এবং নতুন তারিখ হিসেবে ২০২৬ সালের ২৭ মার্চকে ভাবা হচ্ছে। কিন্তু এই ম্যাচটিও নির্ভর করছে স্পেনের বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের ওপর। তাই কোনো তারিখই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি।

বর্তমানে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার একমাত্র প্রতিপক্ষ অ্যাঙ্গোলা, যাদের বিপক্ষে তারা শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) লুয়ান্ডায় মাঠে নামবে। এমন একটি তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের পর ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলাটা লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সেরা মঞ্চ হতে পারে।