রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৯-২০ সেশনের (৬৭তম ব্যাচ) স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোনিয়া সুলতানা আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ৬টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন মির্জাপুরস্থ ইসলাম টাওয়ার আবাসিক ভবনের ৭ তলা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় সোনিয়ার কক্ষ থেকে দুটি মর্মস্পর্শী চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে তার ভেতরের তীব্র যন্ত্রণার কথা ফুটে উঠেছে।
চিরকুটে সোনিয়ার শেষ আকুতি
উদ্ধারকৃত দুটি চিরকুটের একটিতে লেখা ছিল: ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার যেন পোস্টমর্টেম করা না হয়। আব্বু-আম্মু ধ্রুবতারা আমি খুব ভালোবাসি। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আল্লাহকে বলো আমাকে মাফ করে দিতে।’
অন্য চিরকুটটিতে সোনিয়ার বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং শেষ মুহূর্তের অসহনীয় মানসিক যুদ্ধের চিত্র উঠে এসেছে: ‘আমি খুব করে বাঁচতে চেয়েছি বিশ্বাস করো তোমরা। কিন্তু নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে আর পেরে উঠলাম না। আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দিও।’
এই চিরকুটগুলো সোনিয়ার মানসিক অবস্থা এবং তার ভেতরের লড়াইয়ের গভীরতা প্রকাশ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পারিনি। পুলিশও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। আশা করছি, দ্রুতই আমরা বিস্তারিত তথ্য পাব।"
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালিক জানান, "আমরা সকালে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। এই ঘটনায় নিহতের বাবা একটি মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
সোনিয়ার এই অকাল প্রয়াণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। তার চিরকুট দুটি সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের চাপা কষ্ট ও প্রশ্ন তৈরি করেছে – একজন তরুণী কেন জীবনের কাছে এমনভাবে হার মানতে বাধ্য হলেন? এই ঘটনা আবারও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তাদের ভেতরের লড়াইগুলো নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল।