অনলাইন দুনিয়ায় নিজেকে কখনো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কখনো বা নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। মেকআপ (Makeup) করে নারীর বেশ ধারণ করে ভিডিও কলে (Video Call) কোমল কণ্ঠে কথা বলে গড়ে তুলতেন প্রেমের ফাঁদ (Love Trap)। প্রেমের সম্পর্ক গভীর হলে শুরু হতো ভয়ঙ্কর ব্ল্যাকমেইল (Blackmail)। নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করা হতো মোটা অঙ্কের অর্থ।
এই অভিনব ও জঘন্য প্রতারণার জাল বিছিয়ে রেখেছিলেন রংপুরের ২৪ বছর বয়সী যুবক নাজমুল হাসান জিম। দীর্ঘদিন ধরে নেট দুনিয়ায় (Net World) পরিচয়ের মুখোশ পাল্টে একের পর এক প্রতারণা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত র্যাব-এর হাতে ধরা পড়েছেন তিনি।
র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১৩ এই প্রতারক চক্রের প্রধান নাজমুল হাসান জিমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অভিরাম গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে।
গ্রেপ্তারের সময় নাজমুলের কাছ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়, যা তাঁর প্রতারণার পদ্ধতিকে প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে— সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম (Army Uniform) এবং নৌবাহিনীর ইউনিফর্ম (Navy Uniform), ৯টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (Fake National ID), ৬টি মোবাইল ফোন, মেয়েদের পরচুলা (Wig) এবং মেকআপ সেট (Makeup Set)।
প্রতারণার শিকার কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, নাজমুলের সেনা সদস্য পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম।
রফিকুলের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাজমুল ও তাঁর সহযোগীরা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে মোবাইল ফোনে রফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা রাজশাহীতে ১০ কাঠা জমি যৌথ মালিকানায় (Joint Ownership) কেনার প্রস্তাব দেন এবং দাবি করেন যে, তাঁদের দুটি শেয়ার রয়েছে, যার একটি একজন মহিলা সৈনিকের নামে। সেই মহিলা সৈনিকের কিছু টাকা বকেয়া আছে জানিয়ে শেয়ারটি বিক্রির অজুহাতে বাদীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেয় প্রতারকরা।
প্রতারক চক্রটি একাধিকবার ভিডিও কলের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর পোশাক পরে কথা বলে রফিকুলের পূর্ণ আস্থা অর্জন করে। শেয়ারটি কম দামে ক্রয় করার প্রলোভন দেখিয়ে ধীরে ধীরে রফিকুলের কাছ থেকে মোট ১৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা (Seventeen Lakh Twenty-six Thousand Taka) আত্মসাৎ করে তারা।
নারী সেজে ব্ল্যাকমেইল করার কৌশল
র্যাব জানায়, আসামি নাজমুল হাসান জিম বিভিন্ন সময়ে নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য বা নৌবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তবে তাঁর সবচেয়ে অভিনব কৌশল ছিল, নিজেকে নারী সেনা সদস্য (Woman Army Officer) হিসেবে পরিচয় দেওয়া। নারীর বেশ ধারণ করে, নারীর কণ্ঠে কথা বলে ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি প্রেমের ফাঁদ তৈরি করতেন এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতেন।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অনলাইন প্রতারক চক্রের (Online Fraud Syndicate) বিরুদ্ধে র্যাব-১৩ এর গোয়েন্দা তৎপরতা (Intelligence Activities) এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।