• প্রযুক্তি
  • রাতের আকাশে দেখা যাবে আলোর ঝর্ণা, ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০টি উল্কা ঝরার অপেক্ষা

রাতের আকাশে দেখা যাবে আলোর ঝর্ণা, ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০টি উল্কা ঝরার অপেক্ষা

প্রযুক্তি ১ মিনিট পড়া
রাতের আকাশে দেখা যাবে আলোর ঝর্ণা, ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০টি উল্কা ঝরার অপেক্ষা

আর মাত্র এক সপ্তাহ পর পৃথিবীবাসী সাক্ষী হতে চলেছে এক অসাধারণ মহাজাগতিক ঘটনার, যা বাংলাদেশ থেকেও খালি চোখে দেখা যাবে

রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে দিয়ে আকাশজুড়ে বইবে আলোর ফোয়ারা। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যাবে আগুনের ফুলকি, রেখে যাবে ধোঁয়ার দীর্ঘ রেখা। শহর বা গ্রাম, বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে সাক্ষী থাকা যাবে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের। আর এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে মাত্র সপ্তাহখানেক। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আসছে ‘লিওনিড মেটিওর শাওয়ার’ (Leonid Meteor Shower)

কবে ও কখন দেখা যাবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য? জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ মিলবে আগামী ১৬ নভেম্বর গভীর রাত থেকে ১৭ নভেম্বরের ভোর পর্যন্ত। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত সময়কালটি উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। ভোরের দিকে আকাশে একফালি চাঁদ উঠবে ঠিকই, কিন্তু তার ম্লান আলো এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী উপভোগে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।

এটি দেখার জন্য কোনো দামি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। বাড়ির ছাদ বা যেকোনো খোলা জায়গা থেকে উত্তর গোলার্ধের আকাশে রাশি বা Leo Constellation-এর দিকে তাকালেই এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। এবারের লিওনিড উল্কাবৃষ্টির উল্কাগুলোর গতিপথ হবে বেশ দীর্ঘ। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যাওয়ার সময় এদের রং বদলাতে দেখা যেতে পারে, যা মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এক বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে।

‘লিওনিড’ উল্কাবৃষ্টির পেছনের বিজ্ঞান এই অসাধারণ ঘটনার পেছনে রয়েছে ৫৫পি/টেম্পল-টাটল (55P/Tempel-Tuttle) নামের একটি ধূমকেতু। ১৮৬৫ সালে আবিষ্কৃত এই ধূমকেতুটি প্রতি ৩৩.১৭ বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। নিজের কক্ষপথে চলার সময় এটি ধুলো, বরফকণা ও পাথরের এক বিশাল লেজ রেখে যায়। প্রতি বছর মাসে পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ধূমকেতুর রেখে যাওয়া এই ধ্বংসাবশেষের অঞ্চলের মধ্যে প্রবেশ করে।

তখনই ধূমকেতুর এই ধুলিকণাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রচণ্ড গতিতে প্রবেশ করে এবং বায়ুর কণার সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে ওঠে। মহাকাশের এই আতশবাজিকেই আমরা উল্কাবৃষ্টি বা তারা খসা হিসেবে দেখি। যেহেতু এই উল্কাগুলোকে सिंह রাশি থেকে আসছে বলে মনে হয়, তাই এর নামকরণ করা হয়েছে লিওনিড মেটিওর শাওয়ার। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ টেম্পল-টাটল ধূমকেতুটি আবার পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে এবং তখন আরও দর্শনীয় উল্কাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের উল্কাবৃষ্টি কেন বিশেষ? এবারের লিওনিড উল্কাবৃষ্টিতে প্রতি ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই সংখ্যা গত আগস্ট মাসে হয়ে যাওয়া ‘পার্সাইড উল্কাবৃষ্টি’র (ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি) চেয়ে কম, তবুও এবারের ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এ বছর উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ শিখরের সময় আকাশ থাকবে প্রায় চাঁদহীন অন্ধকার। ফলে অপেক্ষাকৃত কম উজ্জ্বল উল্কাগুলোও খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যাবে, যা মহাকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য এক দারুণ সুযোগ।