বুধবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের চিত্র ছিল বেশ কর্মব্যস্ত। এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপের সরঞ্জাম গোছানোর মাঝেই ফ্লাডলাইটের আলোয় প্রবেশ করে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সময় নষ্ট না করে কোচ হাভিয়ের কাবরেরার তত্ত্বাবধানে ঘণ্টাখানেকের নিবিড় অনুশীলনে ঘাম ঝরান জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমরা।
বৃহস্পতিবার রাতে নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচের ফল ছাপিয়েও দলের ভাবনা জুড়ে রয়েছে ১৮ নভেম্বরের ভারত ম্যাচ। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচের প্রস্তুতিই যে এই amistoso বা বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই। অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা এবং অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, উভয়ের কথায়ই ঘুরেফিরে এলো ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সেই মহারণের প্রসঙ্গ।
লক্ষ্য 'ভারত-বধ', নেপাল ম্যাচই অ্যাসিড টেস্ট
এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ভারত, দুই দলেরই। এখন লড়াইটা কেবলই মর্যাদার এবং বাছাইপর্ব একটি ইতিবাচক ফলাফলের মাধ্যমে শেষ করার। 'সি' গ্রুপে বর্তমানে ২ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়, সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তলানিতে ভারত। তাই ১৮ নভেম্বরের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেই কঠিন পরীক্ষার আগে নেপালের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রাখতে চান কোচ কাবরেরা। তিনি বলেন, “দল ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। ক্যাম্পের শেষ দিকে আমরা হামজা ও শমিতসহ পুরো স্কোয়াডকে একসাথে পেয়েছি। প্রস্তুতির জন্য আমরা কয়েকটি ভালো সেশন করেছি। আমি নিশ্চিত, ১৮ তারিখের ভারত ম্যাচের জন্য নেপালের বিপক্ষে এই ম্যাচটি একটি চমৎকার পরীক্ষা হবে।”
স্প্যানিশ এই কোচ আরও যোগ করেন, “আমাদের জয়ের মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। গত কয়েকটি ম্যাচে আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও জিততে পারিনি। আশা করি, নেপাল ম্যাচের মধ্য দিয়েই সেই জয়ের ধারায় ফিরতে পারব।”
প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে কোচের পরিকল্পনা
ইংল্যান্ড থেকে ফিরে হামজা চৌধুরী দলের সাথে দুটি অনুশীলন সেশনে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, কানাডা থেকে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় পৌঁছে বুধবারই অনুশীলনে নামেন শমিত সোম। ভারত ম্যাচের আগে এই দুই প্রবাসী ফুটবলারকে যতটা সম্ভব ‘ম্যাচ টাইম’ দিয়ে দলের সাথে তাদের বোঝাপড়া ঝালিয়ে নিতে চাইছেন কাবরেরা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রস্তুতির জন্য হামজা তুলনামূলক বেশি সময় পেয়েছে। শমিত কয়েকদিন আগেই ম্যাচ খেলে লম্বা ভ্রমণ করে এসেছে। আমরা আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব এবং এরপর তাদের খেলানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।” তাদের শারীরিক অবস্থা এবং দলের কৌশলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার উপরই নির্ভর করছে ভারত ম্যাচের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারা কতটা সময় মাঠে থাকবেন।
প্রতিপক্ষকে সমীহ, তবে মনোযোগের কেন্দ্রে ভারত
আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে নেপালকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “আমার ক্লাব দলেও নেপালের চারজন খেলোয়াড় আছে। আমি তাদের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে জানি। তারা কঠিন প্রতিপক্ষ এবং আমরা তাদের কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছি না।”
তবে, দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের একটি দুর্বল দিক নিয়েও সতর্ক জামাল। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করার প্রবণতা নিয়ে তিনি বলেন, “ফুটবল এখন আর ৯০ মিনিটের খেলা নয়। আমাদের ৯৭-৯৮ মিনিট পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সতর্ক থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”
নেপালের কোচ হরি খাড়কাও বাংলাদেশ এবং ঢাকার ক্লাব ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতার সুবাদে প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন। তার মতে, “বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। হামজাদের মতো খেলোয়াড় যোগ হওয়ায় বাংলাদেশ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ দল। তবে আমরা ভীত নই, কারণ ফুটবল একটি দলীয় খেলা। আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।”
সব মিলিয়ে, নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি নিছক একটি প্রীতি ম্যাচের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করছে। এই ম্যাচের ফলাফল এবং পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে দেবে, ১৮ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ কতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে পারবে।