বিনোদন ডেস্ক: দক্ষিণী সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে ‘অ্যানিমেল’ ছবির বিপুল সাফল্যের পর বলিউডেও নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন রাশমিকা মান্দানা। তবে সম্প্রতি অভিনয়ের বাইরে, এক মন্তব্য করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড নিয়ে তাঁর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় আলোচনার ঝড় উঠেছে, যার জেরে শেষ পর্যন্ত হতাশা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন অভিনেত্রী।
বিতর্কের সূত্রপাত যেখান থেকে
সম্প্রতি অভিনেতা জগপতি বাবুর সঞ্চালনায় ‘জি ফাইভ’-এর টক শো ‘জয়ম্মু নিশ্চায়াম্মু রা’-তে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশমিকা। সেখানে-শরীর এবং ঋতুস্রাব সংক্রান্ত একটি আলোচনায় তিনি নিজের মতামত ব্যক্ত করেন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশমিকা বলেন, “পুরুষদেরও পিরিয়ড হওয়া উচিত। তাহলে নারীরা মাসের এই নির্দিষ্ট দিনগুলোতে যে তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করেন, সেই বাস্তবতা পুরুষরাও উপলব্ধি করতে পারতেন।”
নারীদের ঋতুকালীন কষ্টের প্রতি সহানুভূতি जगाনোর উদ্দেশ্যেই এই মন্তব্যটি করেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই বক্তব্যই জন্ম দিয়েছে তীব্র বিতর্কের।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়
রাশমিকার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। একদল তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ঋতুস্রাবের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে এবং রাশমিকার মন্তব্যের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ছিল সঠিক। তবে সমালোচকদের একটি বড় অংশ তাঁর বক্তব্যকে ‘অবাস্তব’ এবং ‘অযৌক্তিক’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁদের মতে, জৈবিক একটি বিষয় নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য অর্থহীন এবং এটি কেবল বিতর্কের জন্ম দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
হতাশা প্রকাশ করে কী বললেন রাশমিকা?
লাগাতার সমালোচনার মুখে অবশেষে নীরবতা ভাঙেন অভিনেত্রী। ‘এক্স’ (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে রাশমিকার এক অনুরাগী ওই টক শো-এর একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে অভিনেত্রীর মন্তব্যের আসল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। সেই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে রাশমিকা তাঁর হতাশা উগরে দেন।
তিনি লেখেন, “এবং এটি নিয়ে কেউ কথা বলবে না। আজকাল শো এবং ইন্টারভিউতে যেতে আমার এই কারণেই ভয় লাগে। আমি একটি নির্দিষ্ট ভাবনা থেকে কিছু বলতে চাইছি এবং সেটিকে সম্পূর্ণ অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বা ভুলভাবে নেওয়া হচ্ছে।”
অভিনেত্রীর এই প্রতিক্রিয়ার পর স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যায় তিনি কেবল হতাশই নন, বরং भविष्यে সাক্ষাৎকার দেওয়ার বিষয়েও এক ধরনের শঙ্কা বোধ করছেন। এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করল, ডিজিটাল যুগে তারকাদের প্রতিটি মন্তব্য কতটা সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিচার করা হয় এবং প্রায়শই মূল প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে তা বিতর্কের জন্ম দেয়।