• জীবনযাপন
  • পরিবারের সঙ্গে বসে খেলে মেধাবী হবে শিশু: তুখোড় হবে পড়াশোনায়, কেন বললেন হার্ভার্ড ও কলম্বিয়া গবেষকেরা?

পরিবারের সঙ্গে বসে খেলে মেধাবী হবে শিশু: তুখোড় হবে পড়াশোনায়, কেন বললেন হার্ভার্ড ও কলম্বিয়া গবেষকেরা?

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
পরিবারের সঙ্গে বসে খেলে মেধাবী হবে শিশু: তুখোড় হবে পড়াশোনায়, কেন বললেন হার্ভার্ড ও কলম্বিয়া গবেষকেরা?

ফ্যামিলি মিলটাইম ও ব্রেন ডেভেলপমেন্ট-এর যোগসূত্র; গবেষণায় দাবি: এতে দূর হবে মানসিক চাপ ও সামাজিক ভীতি।

মানসিক স্বাস্থ্য ও ব্রেন ডেভেলপমেন্ট: টেবিল টকের জাদু

দিনের শেষে পরিবারের সকলে মিলে একসঙ্গে রাতের খাবার বা নৈশভোজ সারার অভ্যাস কেবল একটি সামাজিক রীতি নয়, এটি একটি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health), মেধা বিকাশ (Brain Development) এবং শিক্ষাজীবনে (Educational Performance) তুখোড় হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেরেন্টিং কনসালট্যান্টরা (Consultants) যেমন বলেন, আদবকায়দা শেখানো জরুরি; ঠিক তেমনই নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ এডুকেশনের সাম্প্রতিক গবেষণাগুলিও এই দাবিকে জোরালো সমর্থন জানাচ্ছে।

গত ২০ বছর ধরে গবেষণা ও সমীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, শিশু যদি নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে খাবার খায়, তবে তার চিন্তাভাবনা, ব্যবহারে বদল আসবে এবং মেধার বিকাশ ঘটবে।

সোশ্যাল স্কিল ও জেদ দূরীকরণে ফ্যামিলি মিলটাইম

পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ার সময় যে কোনও বিষয়ে আলোচনা হতে পারে—সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা, রাজনীতি, খেলাধূলা বা বিনোদন। এই ধরনের আলোচনা শিশুর জ্ঞানের ভান্ডারকে (Knowledge Base) দ্রুত পরিপূর্ণ করে তোলে।

গবেষণা বলছে, একসঙ্গে যাপনের এই পদ্ধতি দেখে শিশু আর পাঁচজনের সঙ্গে মেলামেশা করতে শেখে এবং তার সামাজিক ভীতি (Social Phobia) দূর হয়। এতে শিশুর অতিরিক্ত জেদ বা স্বার্থপর মনোভাবেরও অবসান হয়। এই সোশ্যাল স্কিল (Social Skill) রপ্ত করার ফলে তার মেধার বিকাশ ত্বরান্বিত হয় এবং সে পড়াশোনায় তুখোড় হয়।

এছাড়াও, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থাকলে ছোট ছোট সমস্যাগুলো শিশুরা সহজে বাড়ির বড়দের বলতে ভরসা পায়। মনে কথা চেপে না রাখলে তা পরবর্তী সময়ে গিয়ে মানসিক চাপের (Mental Stress) কারণ হয়ে ওঠে না। এই একসঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস পরিবারের সকলের প্রতি শিশুর বিশ্বাসযোগ্যতাও (Trustworthiness) তৈরি করে।

আদব-কায়দা ও দায়িত্ববোধের প্রাথমিক ট্রেনিং

একসঙ্গে বসে খাওয়ার মাধ্যমে শিশুরা খাওয়ার টেবিলের আদবকায়দা (Etiquette) ও দায়িত্ববোধের (Sense of Responsibility) প্রথম ট্রেনিং পায়। শিশু একা ঘরে খেলে বা খেলেও যদি পরিবারের অন্য সদস্যরা মোবাইল ঘাঁটতে কিংবা টিভি দেখতে ব্যস্ত থাকে, তবে সে সঠিক আদবকায়দা শিখতে পারে না।

বাবা-মায়ের জন্য শিশুকে টেবিল ম্যানার্স (Table Manners) শেখানো তখন সহজ হয়ে যায়। যেমন:

খাওয়ার টেবিলে মোবাইল ব্যবহার না করা।

থালা-বাসন, কাঁটা-চামচের সঠিক ব্যবহার শেখা।

কোন পদে কী ধরনের চামচ ব্যবহার করতে হয় বা মিষ্টি কেন আলাদা পাত্রে খেতে হয়, সেই নিয়মগুলি রপ্ত করা।

এই অভ্যাসগুলি ছোট থেকেই তৈরি হলে শিশু অন্য কারও বাড়িতে গেলে বা রেস্তোরাঁয় (Restaurant) গেলে নিজেই নিয়ম মেনে চলতে পারে। এছাড়া, খেয়ে উঠে নিজের থালা-বাটি তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার অভ্যাস করালে, ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে নিজের কাজ নিজেই করার অভ্যাস তৈরি হয়, যা ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ তৈরি করে।